রাজীব সেন প্রিন্স : একসময় ক্যান্সার চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়াই ছিল অনেক বাংলাদেশি পরিবারের একমাত্র ভরসা।
উন্নত প্রযুক্তি, আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা এবং আধুনিক স্বাস্থ্যসেবার খোঁজে প্রতিবছর হাজারো মানুষ দেশের বাইরে পাড়ি জমাতেন।
সেই বাস্তবতা এখনও পুরোপুরি বদলে না গেলেও পরিবর্তনের শক্তিশালী বার্তা এখন বিশ্বমঞ্চ থেকেই আসছে।
কারণ আজ বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতকে আর শুধু সম্ভাবনার গল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে না, দেখা হচ্ছে একটি উদীয়মান সাফল্যের মডেল হিসেবে।
আর সেই পরিবর্তনের আলোচনায় উঠে এসেছে একটি প্রতিষ্ঠান এবং একটি নেতৃত্বের নাম।
ল্যাবএইড ক্যান্সার হাসপাতাল এন্ড সুপার স্পেশালিটি সেন্টার এবং এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর সাকিফ শামীম।
মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরের JW Marriott Hotel-এ অনুষ্ঠিত এশিয়া ওয়ান আসিয়ান সামিট গ্রেটেস্ট ব্র্যান্ডস এন্ড লিডার্স ২০২৬-এর ২৭তম আসরে সাকিফ শামীম ‘গ্রেটেস্ট লিডার’ এবং ল্যাবএইড ক্যান্সার হাসপাতাল এন্ড সুপার স্পেশালিটি সেন্টার ‘গ্রেটেস্ট ব্র্যান্ড’ হিসেবে বাংলাদেশ থেকে নির্বাচিত হয়েছেন।
একটি পুরস্কার, এক স্বীকৃতি, যা বিশ্বকে জানিয়ে দেয়-বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাত এখন আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের আলোচনায় জায়গা করে নিচ্ছে।
তারও আগে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ “Raising the bar in Bangladeshi healthcare” শিরোনামে একটি বিশেষ ফিচার প্রকাশ করে।
সেখানে বাংলাদেশের আধুনিক স্বাস্থ্যসেবার রূপান্তর, ক্যান্সার চিকিৎসায় প্রযুক্তির ব্যবহার এবং আন্তর্জাতিক মান প্রতিষ্ঠার যাত্রায় বিশেষভাবে স্থান পায় ল্যাবএইড ক্যান্সার হাসপাতাল এন্ড সুপার স্পেশালিটি সেন্টার।
বিশ্বের অন্যতম প্রতিযোগিতাপূর্ণ সংবাদমাধ্যমে বাংলাদেশের একটি ক্যান্সার হাসপাতাল এবং একজন তরুণ করপোরেট নেতার এমন উপস্থিতি নিঃসন্দেহে একটি ব্যতিক্রমী অর্জন।
একটি হাসপাতাল-দেশের আত্মবিশ্বাসের গল্প:
বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি ছিল আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা অবকাঠামো গড়ে তোলা।
সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যেসব প্রতিষ্ঠান পথপ্রদর্শকের ভূমিকা পালন করছে, তাদের অন্যতম ল্যাবএইড ক্যান্সার হাসপাতাল এন্ড সুপার স্পেশালিটি সেন্টার।
আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর চিকিৎসা, আন্তর্জাতিক মানের রোগীসেবা, দক্ষ মেডিকেল টিম এবং সমন্বিত ক্যান্সার কেয়ারের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে দেশের অন্যতম শীর্ষ অনকোলজি সেন্টারে পরিণত হয়েছে।
রোবোটিক সার্জারি, পেট সিটি, বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট, কেমোথেরাপি ডে কেয়ার এবং উন্নত ডায়াগনস্টিক সুবিধার মতো সেবা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতার পরিচয় ছাড়াও বাংলাদেশও বিশ্বমানের চিকিৎসা অবকাঠামো নির্মাণে যে সক্ষম সেটাই প্রমাণ করে।
যে স্বীকৃতি বদলে দেয় পরিচয়:
বিশ্ব স্বাস্থ্যসেবার অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি JCI Accreditation অর্জন করেছে ল্যাবএইড ক্যান্সার হাসপাতাল এন্ড সুপার স্পেশালিটি সেন্টার।
এই স্বীকৃতি শুধু সনদে আবদ্ধ নয়, এটি রোগীর নিরাপত্তা, সেবার মান, আন্তর্জাতিক প্রটোকল এবং প্রতিষ্ঠানগত উৎকর্ষতার বৈশ্বিক স্বীকৃতি।
সাকিফ শামীমের ভাষায়, “Achieving JCI accreditation was the toughest and most rewarding journey.”
এই একটি বাক্যের মধ্যেই লুকিয়ে আছে বছরের পর বছর ধরে গড়ে ওঠা কঠোর পরিশ্রম, মানোন্নয়নের প্রতিশ্রুতি এবং বিশ্বমান অর্জনের সংগ্রামের গল্প।
নতুন প্রজন্মের নেতৃত্ব, নতুন সময়ের স্বাস্থ্যসেবা:
বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্যসেবা খাত দ্রুত প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল ইন্টিগ্রেশন, ডেটাভিত্তিক রোগ নির্ণয় এবং স্মার্ট হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা আগামী দিনের স্বাস্থ্যখাতের ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সাকিফ শামীম সেই পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা অনেক আগেই উপলব্ধি করেছিলেন।
আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গি, প্রযুক্তিনির্ভর চিন্তা এবং রোগীকেন্দ্রিক সেবার সমন্বয়ে তিনি এমন একটি স্বাস্থ্যসেবা মডেলের কথা বলছেন, যেখানে বাংলাদেশ শুধু অনুসারী নয়, বরং উদ্ভাবনের অংশীদার হতে পারে।
এই কারণেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তাঁর নেতৃত্ব বিশেষভাবে প্রশংসিত হচ্ছে।
চিকিৎসার জন্য বিদেশ নয়, আস্থা হোক বাংলাদেশ:
বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতের সবচেয়ে বড় স্বপ্নগুলোর একটি হলো, দেশের মানুষ যেন উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশমুখী হতে বাধ্য না হন।
ল্যাবএইড ক্যান্সার হাসপাতাল এন্ড সুপার স্পেশালিটি সেন্টারের অগ্রযাত্রা সেই স্বপ্নকে বাস্তবের আরও কাছাকাছি নিয়ে এসেছে।
আন্তর্জাতিক মানের সেবা দেশের ভেতরেই নিশ্চিত করার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি রোগীদের চিকিৎসা দেয়ার পাশাপাশি তৈরি করছে আস্থা। সঞ্চার করছে আত্মবিশ্বাস এবং নির্মাণ করছে একটি নতুন স্বাস্থ্য-ভবিষ্যৎ।
বাংলাদেশের জন্য কেন এই অর্জন গুরুত্বপূর্ণ :
বিশ্বমঞ্চে যখন কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান স্বীকৃতি পায়, তখন সেটি শুধু তাদের ব্যক্তিগত সাফল্য থাকে না। সেটি হয়ে ওঠে পুরো দেশের সক্ষমতার প্রতিচ্ছবি।
আজ সাকিফ শামীমের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, ল্যাবএইড ক্যান্সার হাসপাতাল এন্ড সুপার স্পেশালিটি সেন্টারের বৈশ্বিক পরিচিতি এবং গালফ নিউজের মতো প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতের ইতিবাচক উপস্থাপন—সবকিছু মিলিয়ে একটি নতুন বার্তা দিচ্ছে।
সেই বার্তাটি হলো—বাংলাদেশ বদলাচ্ছে। বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাত বদলাচ্ছে।
আর সেই পরিবর্তনের কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে আছে এক নতুন প্রজন্মের নেতৃত্ব, যারা বিশ্বমানের স্বপ্ন দেখতে জানে এবং সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে বিশ্বাস করে।
আজ তাই কুয়ালালামপুরের মঞ্চ থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের পাতায় যে নামটি আলোচনায়।
একজন করপোরেট নেতার নামের সাথে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতের নতুন আত্মবিশ্বাসের নামও জড়িয়ে। আর সেটি হলো—সাকিফ শামীম।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি

