অনলাইনে প্রেম, হোটেলে সাক্ষাৎ, তারপর ধর্ষণের অভিযোগ-অবশেষে গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামে পরিচয়, ঢাকার হোটেলে ধর্ষণ

প্রকাশিত: ১৩ জুন, ২০২৬ ১৫:৪১

চট্টগ্রামের একটি আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে পরিচয়। এরপর অনলাইনে নিয়মিত যোগাযোগ। কথোপকথন গড়ায় ঘনিষ্ঠতায়। একপর্যায়ে আসে প্রেমের প্রস্তাব।

কিন্তু সেই সম্পর্কের পরিণতি শেষ পর্যন্ত গিয়ে ঠেকে ধর্ষণ ও প্রতারণার মামলায়। প্রায় দুই সপ্তাহ আত্মগোপনে থাকার পর অবশেষে র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন মামলার আসামি তুর্য দে (২৫)।

শুক্রবার (১২ জুন) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে চট্টগ্রাম নগরের চকবাজার এলাকার বালি আর্কিড শপিংমলে যৌথ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-৭ (চট্টগ্রাম) ও র‌্যাব-১৪ (ময়মনসিংহ)।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে তাকে আটক করা হয় বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

গ্রেপ্তার তুর্য দে চট্টগ্রাম জেলার রাঙ্গুনিয়া উপজেলার নরেন্দ্র লাল মাস্টারের বাড়ির বাসিন্দা অঞ্জন কুমার দে’র ছেলে।

র‌্যাব সূত্র জানায়, মামলার বাদী সাবরিনা সুলতানা লিজা (২৭) টাঙ্গাইল জেলার ভূঞাপুর উপজেলার নিকরাইল গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পেশায় একজন চীনা দোভাষী।

ঘটনার সূত্রপাত গত ১৮ মে। ওই দিন পেশাগত দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে চট্টগ্রামের হোটেল আগ্রাবাদে আয়োজিত একটি চায়না ইভেন্টে অংশ নেন লিজা।

সেখানেই তুর্য দে’র সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। পরিচয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে দুজনের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ শুরু হয়।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, একপর্যায়ে তুর্য দে ভিকটিমকে প্রেমের প্রস্তাব দেন এবং বিয়ের আশ্বাস দিয়ে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে থাকেন।

সেই ধারাবাহিকতায় গত ২৬ মে রাত আনুমানিক ১১টার দিকে তিনি ভিকটিমকে ঢাকার শাহবাগ থানাধীন ফার্স হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্টের একটি কক্ষে ডেকে নেন।

ভিকটিমের অভিযোগ, সেখানে বিয়ের বিষয়ে কথা বলার একপর্যায়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সম্মতি না দিলে তুর্য দে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন।

মামলার এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ঘটনার পর ভিকটিম বিয়ের জন্য চাপ দিলে তুর্য দে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান। পাশাপাশি তাকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনার পর ভিকটিম নিজেই বাদী হয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের শাহবাগ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণ ও প্রতারণার মামলা দায়ের করেন।

মামলা হওয়ার পর থেকেই তুর্য দে আত্মগোপনে চলে যান বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

অবশেষে দীর্ঘ অনুসন্ধান ও গোয়েন্দা নজরদারির পর শুক্রবার রাতে চট্টগ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাব-৭-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) ও সহকারী পুলিশ সুপার এ. আর. এম. মোজাফ্ফর হোসেন বলেন, মামলার আসামিকে গ্রেপ্তারের পর পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চকবাজার থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

তিনি বলেন, “অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে র‌্যাবের অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।”

উল্লেখ্য, মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন প্রক্রিয়ার অংশ। অভিযোগের বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত গ্রেপ্তার ব্যক্তি আইনগতভাবে অভিযুক্ত হিসেবেই বিবেচিত হবেন।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি