যাত্রী সেজে বাসে-হাতে কোর্ট ফাইল, ভেতরে মিলল ৬০ লাখ টাকার ইয়াবা!

সীতাকুণ্ডে ধরা পড়লেন খুলনার শহিদুল

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৪:১৫

বাইরে থেকে দেখতে হুবহু একজন পেশাজীবী বা সাধারণ চাকরিজীবীর মতো। এক হাতে দুটি অ্যাশ রঙের ‘কোর্ট ফাইল’। দেখে যে কারও মনে হবে জরুরি কোনো দাপ্তরিক কাজ কিংবা মামলার নথিপত্র নিয়ে গন্তব্যে ছুটছেন তিনি।

কিন্তু সেই সাধারণ কভার ফাইলের আড়ালেই লুকিয়ে ছিল কোটি টাকার ভয়াল মাদকের চালান। কৌশলটা দেখতে নিখুঁত হলেও শেষ রক্ষা হয়নি-স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি-৭) চোখ ফাঁকি দিতে পারেননি তিনি।

চট্টগ্রাম-ঢাকা মহাসড়কের সীতাকুণ্ড এলাকা থেকে আনুমানিক ৬০ লাখ টাকা মূল্যের ১৯ হাজার ৮৪৫ পিস ইয়াবাসহ মো. শহিদুল ইসলাম (৪২) নামের ওই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি-৭।

গ্রেপ্তারকৃত শহিদুল ইসলাম খুলনা জেলার বটিয়াঘাটা উপজেলার দরগাপাড়ার আলী মিয়ার ছেলে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ চাঞ্চল্যকর অভিযানের তথ্য নিশ্চিত করেছে এসআরবি।

ঘটনার সূত্রপাত একটি গোপন তথ্যের মাধ্যমে। এসআরবি জানতে পারে, চট্টগ্রাম শহর থেকে এক চতুর মাদক কারবারি যাত্রীবাহী বাসে চেপে বড় এক ইয়াবার চালান নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।

খবরটি পাওয়ার পর কালক্ষেপণ না করে দ্রুত পদক্ষেপে যায় এসআরবি-৭-এর চৌকস দল।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকাল সোয়া ১০টার দিকে সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারী ইউনিয়নের লালবাগ এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনে বসানো হয় অস্থায়ী বিশেষ চেকপোস্ট।

সকাল পৌনে ১১টার দিকে মহিউদ্দিন মেরিন ইঞ্জিন স্টোরের সামনে ‘স্টারলাইন পরিবহন’-এর একটি দূরপাল্লার বাস পৌঁছালে এসআরবি সদস্যরা সেটিকে থামার সংকেত দেন। বাসটি থামার পরপরই ভেতরের যাত্রীদের ওপর নজরদারি ও তল্লাশি শুরু হয়।

তল্লাশির একপর্যায়ে বাসের যাত্রী আসনে বসা মো. শহিদুল ইসলামের গতিবিধি ও হাতের ফাইল দুটি নিয়ে সন্দেহ হয় অভিযানকারীদের। তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ ও তল্লাশি চালানো হয়।

প্রাথমিকভাবে শহিদুলের হাতে থাকা অ্যাশ রঙের দুটি ফাইল দেখতে সাধারণ দাপ্তরিক কোর্ট ফাইলের মতোই লাগছিল। কিন্তু ফাইল দুটি খুলতেই বেরিয়ে আসে অভিনব জালিয়াতির দৃশ্য।

ফাইলের ভেতরে দাপ্তরিক কাগজপত্রের পরিবর্তে কসটেপ দিয়ে অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে মুড়িয়ে রাখা হয়েছিল নীল রঙের বেশ কয়েকটি পলিজিপার প্যাকেট।

প্যাকেটগুলো খুলে একে একে গুনে উদ্ধার করা হয় মোট ১৯ হাজার ৮৪৫ পিস ইয়াবা। উদ্ধারকৃত এই ভয়াল মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য ৫৯ লাখ ৫৪ হাজার টাকা।

এসআরবি জানিয়েছে, শহিদুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম শহর থেকে কম মূল্যে ইয়াবার চালান সংগ্রহ করে ঢাকায় চড়া দামে বিক্রি করে আসছিলেন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি এড়াতে তিনি প্রতিনিয়ত নতুন নতুন কৌশল অবলম্বন করতেন। এবার তিনি কোনো ব্যাগ বা ট্রাভেল ক্যাসে না রেখে সবার চোখ ফাঁকি দিতে ‘কোর্ট ফাইল’ ব্যবহারের আশ্রয় নেন, যাতে সাধারণ মানুষ বা বাস চেকিংয়ের সময় কেউ সন্দেহ না করে।

মাদক কারবারিদের কৌশল যে দিন দিন কতটা আধুনিক, ছদ্মবেশী এবং বুদ্ধিভিত্তিক হয়ে উঠছে, সীতাকুণ্ডের এই ঘটনা তার জ্বলন্ত প্রমাণ।

এ বিষয়ে এসআরবি-৭ চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) এ আর এ মোজাফফর হোসেন জানান, গ্রেপ্তারকৃত শহিদুল ইসলাম এবং তার কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ ইয়াবা পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সীতাকুণ্ড থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।

মাদক চোরাচালানের এ ধরনের অভিনব রুট ও কৌশল রুখে দিতে মহাসড়ক ও গণপরিবহনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি আরও জোরদার করা হচ্ছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি