পাওনাদারদের পাওনা টাকা পরিশোধের তাগাদা থেকে বাঁচতে এবং ব্যবসায়িক অংশীদারদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসাতে নিজেই নিজের ‘অপহরণের’ এক অভিনব ও চাঞ্চল্যকর নাটক সাজিয়েছিলেন এক ব্যবসায়ী। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি।
পুলিশের প্রযুক্তিগত তৎপরতা ও নিখুঁত অভিযানের মুখে ফাঁস হয়ে গেছে পুরো চক্রান্তের থলের বিড়াল। নিজের পাতা ফাঁদেই অবশেষে বন্দি হতে হলো চট্টগ্রাম নগরের ব্যবসায়ী সফি উল্লাহকে।
ঘটনার সূত্রপাত গত শনিবার। নগরের চকবাজার এলাকায় নিজের রেস্টুরেন্ট থেকে বহদ্দারহাটের উদ্দেশ্যে বের হয়ে আর বাড়ি ফেরেননি সফি উল্লাহ।
তিনি নিখোঁজ হওয়ার পরদিন রবিবার তাঁর স্ত্রী ইয়াছমিন আক্তার উদ্বিগ্ন হয়ে পাঁচলাইশ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
পরিবারের লোকজন যখন দুশ্চিন্তায় দিশেহারা, ঠিক তখনই একটি অচেনা নম্বর থেকে ফোন আসে সফি উল্লাহর পরিবারের কাছে। অপর প্রান্ত থেকে দাবি করা হয় নগদ পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ!
টাকা না দিলে সফি উল্লাহকে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়। ঘটনাটি অপহরণের রূপ নেওয়ায় অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে মাঠে নামে পুলিশ।
তবে রহস্যের জট খুলতে শুরু করে পুলিশের তদন্তের প্রাথমিক পর্যায় থেকেই।
পুলিশ অনুসন্ধানে জানতে পারে, চট্টগ্রাম নগর ও জেলার বিভিন্ন স্থানে রহস্যজনকভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছেন সফি উল্লাহ নিজেই।
চট্টগ্রাম হাটহাজারীর ছাদেকনগর এলাকার একটি মাজারে তাঁর অবস্থানের পিনপয়েন্ট লোকেশন শনাক্ত করে পুলিশ।
সেখানে অনুসন্ধান চালিয়ে জানা যায়, কোনো অপহরণকারী নয়, বরং এক ব্যক্তির সহায়তায় নিজেই পরিবারের কাছে ফোন করে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছিলেন সফি উল্লাহ।
তবে পুলিশ মাজারে পৌঁছানোর আগেই চতুর এই ব্যবসায়ী সটকে পড়েন।
অবশেষে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাঁর সর্বশেষ অবস্থান নিশ্চিত হয়ে বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ৩টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের জোরারগঞ্জ এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান চালায় পুলিশ।
সেখানে শ্যামলী পরিবহনের একটি চলন্ত বাস থামিয়ে ভেতর থেকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় ‘অপহৃত’ সফি উল্লাহকে।
পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, উদ্ধারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেই পুলিশের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন সফি উল্লাহ।
জিজ্ঞাসাবাদে সফি উল্লাহ জানান, ব্যবসায়িক দেনা-পাওনা পরিশোধের হাত থেকে সাময়িকভাবে বাঁচতে এবং সুযোগ বুঝে নিজের ব্যবসায়িক অংশীদারদের ওপর অপহরণের দায় চাপিয়ে তাঁদের বিপদে ফেলতেই এই আত্মগোপন ও সাজানো নাটকের পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি।
পাওনাদার আর অংশীদারদের ফাঁদে ফেলতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত পুলিশের চোখ ফাঁকি দিতে পারেননি এই চতুর ব্যবসায়ী। সাজানো অপহৃত থেকে এখন তিনি নিজেই পুলিশের হাতে আটক অপরাধী।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি


