রাউজানের সাধারণ মানুষের মনে দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্কের নাম ছিল ‘ডাকাত আলম’ ও ‘আজিজ বস’ গ্যাং।
ভয়ভীতি প্রদর্শন, চাঁদা দাবি কিংবা সশস্ত্র হামলা-কদলপুরসহ আশপাশের এলাকাকে যেন নিজেদের জিম্মি বানিয়ে রেখেছিল এই সংঘবদ্ধ অপরাধীচক্র। তবে এবার আর শেষ রক্ষা হয়নি।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম, বিপিএম-এর কড়া নির্দেশনায় রাউজান থানা পুলিশের এক দুঃসাহসিক ও রুদ্ধশ্বাস অভিযানে গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এই সন্ত্রাসী ডেরা।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২৫ সেপ্টেম্বর। স্থানীয় আবু বক্কর চৌধুরীর বাড়িতে গিয়ে প্রকাশ্য চাঁদা দাবি করে গ্যাংটির সদস্যরা।
খবরটি পুলিশ প্রশাসনের নজরে আসলে শুরু হয় গোপন পর্যবেক্ষণ ও তথ্য যাচাই। ঘটনায় সত্যতা মিলতেই অপরাধীদের যেকোনো মূল্যে আইনের আওতায় আনতে রাউজান থানা পুলিশকে বিশেষ নির্দেশ দেন জেলা পুলিশ সুপার।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাত পৌণে ১১ টার দিকে রাউজান থানাধীন ৮নং কদলপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ কদলপুর জয়নগর বড়ুয়া পাড়ায় মো. জানে আলম ওরফে ডাকাত আলমের বসতঘর ঘিরে ফেলে পুলিশের একটি চৌকস দল।
পুলিশের উপস্থিতি টের পেতেই ঘেরাওয়ের ভেতর থেকে আচমকা এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে সন্ত্রাসীরা। জানে আলম ওরফে ডাকাত আলম (৪২), মোহাম্মদ আজিজ ওরফে আজিজ বস (৫২), দিলদার হোসেন (৩৭), মো. রুবেল (২৭), মো. মামুন-অর-রশিদ ওরফে মামুন (৩৫) ও মো. বাঁচা (৪৫)-সহ তাদের সঙ্গীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলি বর্ষণ করে।
হঠাৎ সশস্ত্র আক্রমণের মুখেও জীবন বাজি রেখে অসীম সাহসিকতা ও পেশাদারিত্বের পরিচয় দেন পুলিশ সদস্যরা। নিজেদের সুরক্ষায় তাৎক্ষণিক পাল্টা গুলি চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে তারা। উভয়পক্ষের গোলাগুলিতে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় চারপাশ।
সন্ত্রাসীদের ছোড়া গুলিতে ও তাণ্ডবে আহত হন রাউজান থানা পুলিশের ১২ জন সদস্য। আহতদের মধ্যে রয়েছেন এসআই (নিরস্ত্র) মো. জান্নাতুন নাঈম রাজন, এসআই মোঃ খোরশেদ আলম, এসআই মোঃ বায়েজিদ মৃধা, এসআই মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, এএসআই মোঃ জুয়েল চন্দ্র বিশ্বাস এবং এএসআই মোঃ রবিউল হোসেন।
পুলিশের পাল্টা জবাবে কোণঠাসা হয়ে সন্ত্রাসীরা পালানোর চেষ্টা করলে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আটক করা হয় দিলদার হোসেন (৩৭) নামের এক কুখ্যাত সন্ত্রাসীকে।
পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এবং ঘটনাস্থল ও সন্ত্রাসীদের হেফজত থেকে উদ্ধার করা হয় বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও ভয়ানক অস্ত্রসম্ভার।
উদ্ধারকৃত অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে, ১টি ডিবিবিএল (দোনলা বন্দুক), ১টি এসবিবিএল (একনলা কাটা বন্দুক), ১১৯ রাউন্ড চায়না রাইফেলের গুলি, ৬ রাউন্ড সীসা কার্তুজ, ৪টি রামদা, ২টি কটি ও ২টি গুলি রাখার প্রসেস।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গ্রেফতারকৃত দিলদার ও তার পলাতক সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে অস্ত্র উঁচিয়ে এলাকাভিত্তিক চাঁদাবাজি, ডাকাতি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল।
উল্লেখ্য, এর মাত্র একদিন আগে গত ২৯ সেপ্টেম্বর গভীর রাতেও কদলপুর এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে তিনটি দেশীয় অস্ত্র (এলজি), কার্তুজ, রামদা ও ছোরাসহ ৩ জনকে গ্রেফতার করেছিল রাউজান থানা পুলিশ। ওই ঘটনায় ডাকাতির প্রস্তুতি ও অস্ত্র আইনে পৃথক দুটি মামলা রুজু হয়েছে।
রাউজান থানা পুলিশের এই দুঃসাহসিক অভিযানে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন কদলপুরের সাধারণ মানুষ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পলাতক আসামিদের গ্রেফতার এবং পুরো সন্ত্রাসী চক্রটিকে মূলউৎপাটন করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি


