দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া তীব্র ক্ষোভ গড়ায় অনাকাঙ্ক্ষিত সহিংসতায়। মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনার পরপরই মহাসড়কে শুরু হয় ভাঙচুর ও পুলিশ বাহিনীর ওপর অতর্কিত হামলা।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গাড়ি ভাঙচুর, শটগান ছিনতাই এবং তিন পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার সেই ঘটনায় শেষ পর্যন্ত অ্যাকশনে নেমেছে পুলিশ।
অভিযান চালিয়ে ইতোমধ্যেই চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
জানা গেছে, গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সন্ধ্যার আলো যখন ধীরে ধীরে নিভে আসছিল, ঠিক তখনই চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের কালিয়াইশ ইউনিয়নের মৌলভীর দোকান এলাকায় এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতি তৈরি হয়।
একটি যাত্রীবাহী মিনিবাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি ভয়াবহ সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই দু’জন প্রাণ হারান। সহসাই আনন্দময় যাতায়াত পরিণত হয় নিথর শোকে।
দুর্ঘটনার এই হৃদয়বিদারক খবর ছড়িয়ে পড়তেই মুহূর্তের মধ্যে উত্তেজিত হয়ে ওঠেন স্থানীয় জনতা। তারা মহাসড়ক অবরোধ করে সব ধরনের যান চলাচল স্তব্ধ করে দেন।
খবর পেয়ে দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দিতে সাতকানিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জাহেদ হোসেন ও এসআই মোহাম্মদ মহিন উদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। কিন্তু সেখানে শান্তির পরিবর্তে নেমে আসে চরম উত্তাপ।
উত্তেজিত জনতা আচমকাই পুলিশের ওপর চড়াও হয়। ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও লাঠিসোঁটার আঘাতে রক্তাক্ত হন দায়িত্বপ্রাপ্ত তিন পুলিশ সদস্য।
এখানেই শেষ নয়, উত্তেজিত জনতা ভাঙচুর চালায় পুলিশের একটি সরকারি পিকআপে, যার আনুমানিক ক্ষতি ধরা হয়েছে প্রায় তিন লাখ টাকা।
পরিস্থিতি আরো ঘোলাটে হয়ে ওঠে যখন হামলাকারীরা একপর্যায়ে পুলিশের একটি শটগান ছিনিয়ে নিয়ে সটকে পড়ে।
ঘটনার ভয়াবহতা বুঝতে পেরে দ্রুত অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য এসে ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলে এবং কঠোর হস্তে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে লুণ্ঠিত শটগানটি উদ্ধার করা হয় এবং ক্ষতিগ্রস্ত সরকারি গাড়িটি হেফাজতে নেওয়া হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে এসআই জাহেদ হোসেন বাদী হয়ে সাতকানিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনসহ দণ্ডবিধির নানা ধারায় দায়ের করা এই মামলায় ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৫০০ থেকে ৬০০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তাৎক্ষণিক অভিযানে এজাহারভুক্ত চার আসামিকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন-মোহাম্মদ হোসাইন, মো. হাসিবুল ইসলাম, লিয়াকত শিকদার এবং মো. আজাহার শিকদার।
এ বিষয়ে সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী দৃঢ় ভাষায় জানান, সড়ক দুর্ঘটনা নিঃসন্দেহে বেদনাদায়ক, কিন্তু সেটিকে কেন্দ্র করে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া, সরকারি সম্পত্তিতে হামলা ও অস্ত্র লুটের মতো অপরাধ বরদাশত করা হবে না।
ভিডিও ফুটেজ ও তথ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণ করে জড়িতদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। গ্রেপ্তার চারজন ছাড়া বাকিদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি


