মহাসড়কে ছোট্ট ওয়াসিফাকে বুকে জড়িয়ে বিদায় নিলেন বাবা দেলোয়ার

মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা-বাসে আগুন

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:০৩

শুক্রবার সন্ধ্যায় এক অন্যরকম স্তব্ধতা নেমে এসেছিল চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সাতকানিয়ার কালিয়াইশ এলাকায়।

ঘড়ির কাঁটায় তখন পৌনে আটটা। পেটের দায়ে বা পরিবারের প্রয়োজনে বাইরে যাওয়া প্রতিটি মানুষ তখন ঘরের পানে ছুটছেন। কিন্তু কালিয়াইশ ইউনিয়নের পাঠানিপুল এলাকায় ডিবিএম ব্রিক ফিল্ডের সামনে ঘাতক একটি মিনিবাস মুহূর্তে সব ওলটপালট করে দিল।

সিএনজিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে সেই মিনিবাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ কেড়ে নিল মাত্র দুই বছর বয়সী শিশু ওয়াসিফা জান্নাত ও তার বাবা দেলোয়ার হোসেনের (৩৩) প্রাণ।

নিহত দেলোয়ার হোসেন কালিয়াইশ ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবদুস সাত্তারের ছেলে।

যে বয়সে ছোট্ট ওয়াসিফার পৃথিবী চেনার কথা, হাসিখেলী পায়ে বাড়ির আঙিনায় ছুটে বেড়ানোর কথা, সেই বয়সেই বাবার কোল আঁকড়ে চিরকালের মতো ঘুমিয়ে পড়ল সে।

এ ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এই মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই মুহূর্তের মধ্যে এলাকার বাতাস ভারী হয়ে ওঠে শোকে এবং ক্ষোভে। কান্নার রোল ছাপিয়ে চারপাশ প্রকম্পিত হয় বিক্ষুব্ধ জনতার স্লোগানে।

মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষুব্ধ জনতা ঘাতক মিনিবাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরিস্থিতি এমন একপর্যায়ে পৌঁছায় যে, ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে যাওয়া পুলিশের গাড়িতে হামলা চালানো হয়।

এমনকি আগুন নেভাতে দ্রুত ছুটে যাওয়া ফায়ার সার্ভিসের গাড়িটিও আটকে দেয় উত্তেজিত জনতা।

এর ফলে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের দুপাশে দীর্ঘ কয়েক কিলোমিটারজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়, যা যাত্রীদের চরম দুর্ভোগে ফেলে।

খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে যায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ শুরু করে।

এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করায় পরিস্থিতি শান্ত করতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম।

দোহাজারী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল আবছার গণমাধ্যমকে জানান, দুর্ঘটনায় বাবা ও মেয়ের মৃত্যুর পাশাপাশি বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

একই সঙ্গে বাসে আগুন দেওয়া, পুলিশের ওপর হামলা এবং ফায়ার সার্ভিসের কাজে বাধা দেওয়ার মতো বিশৃঙ্খল ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আরিফুল ইসলাম ছিদ্দিকী জানান, অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।

এদিকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে।

তদন্ত সাপেক্ষে সরকারি কাজে বাধা দেওয়া এবং সহিংসতার সঙ্গে সরাসরি জড়িত প্রতিটি ব্যক্তিকে সুনির্দিষ্টভাবে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি