পথের ধারে ফেলে যাওয়া শিশুর জন্য ১২৩টি পরিবারের হাহাকার!

অভূতপূর্ব মানবিক প্রতিযোগিতায় কন্যাশিশুর ভাগ্য ফিরছে কার ঘরে?

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১৫:৫৩

কেউ বা তাকে রাতের আঁধারে পথের ধারের ঝোঁপঝাড়ে ফেলে দিয়ে গিয়েছিল নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার ঘৃণ্য উদ্দেশ্যে। কিন্তু সৃষ্টিকর্তা যাকে বাঁচিয়ে রাখতে চান, মানবতা তার জন্য ঠিকই দরজা খুলে দেয়।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে উদ্ধার হওয়া সেই সদ্যজাত অনামিকা কন্যাশিশুটিকে ঘিরে এখন উপজেলার আনাচে-কানাচে বইছে অপার মায়া ও আবেগের সুবাতাস।

মাত্র এক দিনের ব্যবধানে শিশুটির অভিভাবকত্ব নিতে এবং তাকে নিজের সন্তানের মতো স্নেহে-আদরে লালন-পালনের দায়িত্ব পেতে বিস্ময়কর ১২৩টি আবেদন জমা পড়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে। উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের উত্তর পাইন্দং এলাকার আমতলী লোকালয়ে সড়কের পাশের এক নির্জন ঝোঁপঝাড়ে কান্নার শব্দ শুনতে পান স্থানীয় পথচারীরা।

কাছে গিয়ে ঝোঁপের অন্তরালে এক অলৌকিক দৃশ্য। বিপদের মুখেও বেঁচে থাকা এক সদ্যজাত ফুটফুটে কন্যাসন্তান।

তাৎক্ষণিকভাবে ফটিকছড়ি থানা-পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিশুটিকে সযত্নে উদ্ধার করেন।

পরে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা জানান, শিশুটির শারীরিক অবস্থা সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত ও ভালো রয়েছে।

শিশুটি উদ্ধারের পর থেকেই উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় লোকজনের মধ্যে তাকে নিয়ে তৈরি হয় গভীর প্রতিক্রিয়া।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত পর্যন্ত ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)-র কার্যালয়ে আবেদনকারী দম্পতিদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ পর্ব চলে।

তবে প্রশাসন জানিয়েছে, কেবল আবেগ বা আবেদন দিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়।

আবেদনকারীদের পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড, আর্থিক সামর্থ্য, নৈতিক পরিবেশ এবং একটি শিশুর সুস্থ ও সুন্দর বিকাশ নিশ্চিত করার সক্ষমতা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে শিশু দত্তক সংক্রান্ত যাবতীয় প্রচলিত আইনি ধারা মেনে।

এ বিষয়ে ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম জানান, শিশুটি উদ্ধারের পর থেকেই একে নিজের সন্তান হিসেবে গ্রহণ করার জন্য বিপুলসংখ্যক আবেদন জমা হতে থাকে।

আমরা সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এমন একটি পরিবার নির্বাচন করতে চাই, যেখানে শিশুটি একটি নিরাপদ, সুরক্ষিত ও আলোকময় ভবিষ্যৎ পাবে।

একদিকে যেমন কুড়িয়ে পাওয়া এই শিশুটিকে ঘিরে তৈরি হয়েছে এক উষ্ণ মানবিকতার আবহ, অন্যদিকে এই নিষ্পাপ প্রাণটিকে রাতের আঁধারে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়ার অপরাধে ক্ষুব্ধ সচেতন সমাজ।

কার নিষ্ঠুরতা বা কোন পরিস্থিতির শিকার হয়ে এই শিশুটি ঝোঁপঝাড়ে ঠাঁই পেয়েছিল-তা উদঘাটনে কঠোর তদন্ত ও অপরাধীদের শনাক্ত করার জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি