ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ডে ইঞ্জিন বিকল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা একটি যাত্রীবাহী বাসে লরির সজোরে ধাক্কায় শিশু ও নারীসহ অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ২০ জনের বেশি যাত্রী।
সোমবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনে সীতাকুণ্ডের বড়কুমিরা এলাকার ‘কিং অব কুমিরা’ কনভেনশন হলের দক্ষিণ পাশে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে তিনজন নারী, একজন পুরুষ ও এক শিশু রয়েছেন। তাৎক্ষণিকভাবে তাঁদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হতাহত ব্যক্তিদের অধিকাংশের বাড়ি নেত্রকোনা জেলায়।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাতে ঢাকামুখী একটি যাত্রীবাহী বাস যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সীতাকুণ্ডের বড়কুমিরা এলাকায় বিকল হয়ে পড়ে। মহাসড়কের পাশে বাসটি দাঁড় করিয়ে সার্ভিসিংয়ের কাজ চালাচ্ছিলেন চালক ও সহকারীরা।
দীর্ঘ সময় অপেক্ষার কারণে বাসের অধিকাংশ যাত্রী নেমে রাস্তার পাশে একটি গাছের ডালের ওপর ও আশপাশে বসেছিলেন। এ সময় একই অভিমুখে আসা দ্রুতগতির একটি লরি দাঁড়িয়ে থাকা বাসের পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়।
লরির প্রচণ্ড ধাক্কায় বাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং আশপাশে দাঁড়িয়ে থাকা ও গাছের নিচে বসে থাকা যাত্রীদের ওপর গিয়ে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই বাসের ভেতর থাকা দুইজন এবং বাইরে থাকা তিনজন যাত্রী প্রাণ হারান।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত উদ্ধার অভিযানে নামে কুমিরা ফায়ার সার্ভিস টিম। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় আহত ও নিহতদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন নেত্রকোনা জেলার সীবাশ্রম এলাকার ফাতেমা (৪০), আজহারুল (৪২), রাকিব (৮) ও বড়কান্দা এলাকার আবুল হোসেন (৫০)। চিকিৎসকেরা জানান, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে কুমিরা ফায়ার স্টেশনের ফায়ার ফিটার হাবিবুর ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনাস্থল থেকে শিশু ও নারীসহ পাঁচজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আহত হয়েছেন ২০ জনের বেশি যাত্রী। তাঁদের মধ্যে গুরুতর আহত অন্তত ছয়জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি দুটি উদ্ধার করে হাইওয়ে থানা হেফাজতে নিয়েছে এবং ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি


