স্কুলে ব্যাগ রেখে পর্যটন কেন্দ্রে আড্ডা! আকস্মিক অভিযানে ধরা ৩৫ শিক্ষার্থী

অভিভাবকদের ডেকে সতর্ক করল প্রশাসন

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর, ২০২৬ ১৪:৫৮

শ্রেণিকক্ষে যখন শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চায় মশগুল থাকার কথা, ঠিক তখনই স্কুলের পোশাক (ইউনিফর্ম) পরিহিত একদল কিশোর-কিশোরী ঘুরে বেড়াচ্ছিল বিনোদনকেন্দ্রে।

পড়ালেখা ভুলে পর্যটন স্পটগুলোতে সহপাঠীদের নিয়ে জমজমাট আড্ডায় মেতে উঠেছিল তারা। তবে শেষ পর্যন্ত তাদের এই অনিয়ম আর নজর এড়ায়নি উপজেলা প্রশাসনের।

গতকাল বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার বিভিন্ন পর্যটন স্পটে এক আকস্মিক অভিযান চালিয়ে ক্লাস ফাঁকি দেওয়া ৩৫ জন শিক্ষার্থীকে আটক করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবদুর রহমান।

পরবর্তীতে কোনো ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিয়ে অত্যন্ত মানবিক ও দায়িত্বশীল পরিচয়ে তাদের অভিভাবক ও শিক্ষকদের ডেকে সতর্ক করে নিজ নিজ জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার শিক্ষার্থীরা ক্লাস চলাকালীন পড়ালেখা বাদ দিয়ে নিয়মিত পোশাক পরেই স্থানীয় পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে আড্ডা ও ঘোরাঘুরি করছে-এমন অভিযোগ বেশ কিছুদিন ধরেই উঠছিল।

এর ওপর ভিত্তি করে বৃহস্পতিবার দিনভর বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে ঝটিকা তদারকি পরিচালনা করে উপজেলা প্রশাসন।

অভিযানে গিয়ে দেখা যায়, বেশ কিছু শিক্ষার্থী দলবেঁধে ইউনিফর্ম পরিহিত অবস্থায় ক্লাসের সময় পার করছে। তাৎক্ষণিকভাবে বিভিন্ন স্থান থেকে ৩৫ জন শিক্ষার্থীকে চিহ্নিত করে উপজেলা পরিষদে নিয়ে আসা হয়।

শিক্ষার্থীদের আটকে রাখার পর ইউএনও মো. আবদুর রহমানের নির্দেশে দ্রুত সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও অভিভাবকদের উপজেলা পরিষদে তলব করা হয়।

অভিভাবক ও শিক্ষকরা উপস্থিত হলে এক ব্যতিক্রমী সচেতনতামূলক সভার রূপ নেয় পরিষদ ভবন।

শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গঠন, পড়ালেখায় মনোযোগী হওয়া এবং সঠিক দিকনির্দেশনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে আবেগঘন বক্তব্য রাখেন ইউএনও।

একইসঙ্গে, সন্তানদের দৈনন্দিন কার্যক্রম ও তারা নিয়মিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাচ্ছে কি না-সে বিষয়ে অভিভাবকদের নজরদারি আরও জোরদার করার তাগিদ দেওয়া হয়।

পরে ভুল স্বীকার ও পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার প্রতিশ্রুতিতে অভিভাবক এবং শিক্ষকদের জিম্মায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

চন্দনাইশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবদুর রহমান বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্য কাউকে শাস্তি দেওয়া নয়, বরং শিক্ষার্থীরা যাতে ভুল পথে পরিচালিত না হয় এবং পড়ালেখার প্রতি মনোযোগী থাকে, সে সচেতনতা তৈরি করা।

সন্তানরা ঠিকমতো স্কুলে পৌঁছেছে কি না-এ বিষয়ে অভিভাবকদের নজরদারি বাড়ানো জরুরি। শিক্ষাঙ্গনে শৃঙ্খলা ও সুস্থ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এ ধরনের তদারকি অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।

উপজেলা প্রশাসনের এমন সময়োপযোগী ও শিক্ষা-বান্ধব পদক্ষেপকে স্থানীয় সুশীল সমাজ ও অভিভাবকরা সাধুবাদ জানিয়েছেন।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি