চট্টগ্রাম নগরীর কাপ্তাই রাস্তার মাথায় সম্রাজ্ঞী ঝর্ণার ওপেন মাদক বাণিজ্য: সহযোগীতায় পুলিশের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ২১:৪৬

বিশেষ প্রতিবেদক:
নগরীর কাপ্তাই রাস্তার মাথা রেললাইনের সংলগ্ন মোহড়া এলাকা ও মেহেরাজ খান চৌধুরী ঘাট এখন মাদকের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনারের মাদক, চাঁদাবাজি ও ছিনতাইয়ের বিরুদ্ধে ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সেখানে প্রকাশ্যে চলছে কোটি টাকার পাইকারি ও খুচরা মাদক কেনাবেচা। এই বিশালাকার অপরাধ সাম্রাজ্যের নেপথ্যে রয়েছেন মাদক সম্রাজ্ঞী মরিয়ম আক্তার ঝর্ণা।পুলিশ প্রশাসনের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তাদের শক্তিশালী সিন্ডিকেটের যোগসাজশে মোহড়াকে তিনি বানিয়ে তুলেছেন এক নিরাপদ মাদকের অভয়ারণ্য।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ঝর্ণার নিয়ন্ত্রণাধীন এই মাদক সিন্ডিকেটের ক্ষমতার উৎস মূলত টাকার প্রভাব। অভিযোগ রয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অসাধু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করতে তিনি লাখ লাখ টাকা মাসোহারা দেন। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, কাপ্তাই রাস্তার মাথা ও মোহড়া এলাকায় দৈনিক ২০ থেকে ৩০ লক্ষ টাকার মাদক বিক্রি হয়।

এমনকি গ্রেপ্তারের পর মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে ছাড়া পাওয়ার একাধিক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। সর্বশেষ গত ১০ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে কাপ্তাই রাস্তার মাথা এলাকার মেহেরাজ খান চৌধুরী ঘাট সংলগ্ন মাদক স্পটে ৯ পিবিএন-এর একটি দল অভিযান পরিচালনা করে। বিশ্বস্ত সূত্র ও তথ্যদাতা মোহাম্মদ নাহিদের সহায়তায় পরিচালিত উক্ত অভিযানে মাদকসম্রাজ্ঞী মরিয়ম আক্তার ঝর্ণাকে দুটি স্মার্টফোনসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ২০ কেজি গাঁজা, ২ হাজার পিস ইয়াবা এবং নগদ ২ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। অভিযান চলাকালীন মাদকসম্রাজ্ঞী ঝর্ণার সশস্ত্র অনুসারীরা ৯এপিবিএন সদস্য ও সরকারি গাড়ি লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে এবং গাড়ির পেছনের গ্লাস ভাংচুর করে। এ সময় তথ্যদাতা নাহিদকেও মারধর করা হয়। ঘটনাস্থলে গ্রেফতারকৃত ঝর্ণা তাৎক্ষনিক মুক্তি পাওয়ার জন্য ২০লক্ষ নগদ ও টাকা ৫০কেজি গাজাঁ দিয়ে তার কর্মচারী মো. কামরুলকে আসামী হিসেবে গ্রেফতারের অনুরোধ করেন কিন্তু অভিযান এই অভিযানে নেতৃত্ব প্রদানকারী ৯ পিবিএন এসআই শাহাদাত তাকে গ্রেফতার করে ৯ পিবিএন কার্য্যালয়ে নিয়ে যায় এবং এসপি আরেফিন জুয়েল -এর প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় এস আই শাহাদাত ৩০ লক্ষ টাকা ঘুষ নিয়ে মূল ঘটনার সম্পূর্ণ এজাহার বদলে মামলা থেকে সহজে অব্যাহতি পেতে ঝর্ণাকে সহায়তা করেন।

অপরাধ বিস্তারে কৌশল ও কলোনি সিন্ডিকেট
মাদক বিক্রির সুবিধার্থে মোহড়া এলাকায় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের জায়গা দখল করে একটি আলাদা কলোনি গড়ে তোলা হয়েছে, যার প্রতিটি ঘরকে মূলত মাদকের গুদাম হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। শুধু তা-ই নয়, নিজের আধিপত্য ধরে রাখতে ঝর্ণা অত্যন্ত চতুর কৌশল অবলম্বন করছেন। মোহড়া ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক ইকবাল হোসেন চৌধুরীসহ স্থানীয় সচেতন মহল একাধিকবার মাদকবিরোধী সমাবেশ ও সামাজিক আন্দোলন করলেও থামানো যায়নি এই মাদক চক্রকে।

প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ও জনদাবি
কাপ্তাই রাস্তার মোড় ও মোহড়া এলাকার অপকর্ম এবং মাদক চক্রের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে সর্বস্তরের জনগণ। ধ্বংসের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে রয়েছে চট্টগ্রামের তরুণ প্রজন্ম। এই ভয়াবহ পরিস্থিতি নিরসনে সচেতন এলাকাবাসী প্রশাসনের শীর্ষ মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে অবিলম্বে মাদক সম্রাজ্ঞী মরিয়ম আক্তার ঝর্ণা ও তার মূল সহযোগীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে কঠোর আইনি শাস্তির আওতায় আনার জোর দাবী জানান এবং তাতে সহায়তাকারী পুলিশ সদস্যদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহনের আহব্বান জানান সর্বপরি চান্দগাঁও, মোহড়া ও কাপ্তাই রাস্তার মাথা এলাকায় পুলিশ, র‍্যাব এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সমন্বয়ে নিয়মিত বিশেষ যৌথ অভিযান চালিয়ে মাদকের এই কলোনি ও স্পটসমূহ সম্পূর্ণরূপে গুঁড়িয়ে দিতে বর্তমান পুলিশ কমিশনারের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেন এলাকাবাসি ।