মেয়াদোত্তীর্ণ ও দুর্গন্ধযুক্ত উপকরণ দিয়ে খাবার প্রস্তুত এবং বাসি রান্না করা খাবার কাঁচা মাছ-মাংসের সঙ্গে একই ফ্রিজে সংরক্ষণের অপরাধে নগরের কাজীর দেউড়ীর ‘সাম’স’ রেস্টুরেন্টকে দেড় লাখ টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয় ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) একটি যৌথ দল কাজীর দেউড়ি বাজার ও আশপাশের এলাকায় বাজার তদারকিমূলক অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, ‘সাম’স’ রেস্টুরেন্টে তল্লাশি চালিয়ে দেখা যায়, সেখানে অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর ও ঝুঁকিপূর্ণ উপায়ে মেয়াদোত্তীর্ণ ও দুর্গন্ধযুক্ত বিভিন্ন উপাদান দিয়ে খাবার তৈরি করা হচ্ছিল।
শুধু তাই নয়, রান্না করা বাসি খাবার এবং কাঁচা মাছ-মাংস কোনো ধরনের স্বাস্থ্যবিধি না মেনে একই ফ্রিজে সংরক্ষণ করা হয়েছিল। এ ছাড়া খাবার তৈরির জন্য মেয়াদোত্তীর্ণ পাউরুডিও মজুত করা হয়েছিল। এসব অনিয়মের দায়ে প্রতিষ্ঠানটিকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
একই অভিযানে কাজীর দেউড়ি বাজারে দেশি মাগুর মাছের সঙ্গে চাষের শিং মাছ মিশিয়ে বিক্রি এবং চাষের শিং মাছকে দেশি বলে প্রতারণা করার অপরাধে ‘খালেকের মাছের দোকান’ ও ‘আনোয়ার ফিস’কে ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়।
অন্যদিকে, মেয়াদোত্তীর্ণ পাউরুটি দিয়ে বার্গার তৈরি এবং কয়েক দিনের পুরোনো পোড়া তেলে খাবার প্রক্রিয়াজাত করার দায়ে ‘সিপি ফাইভ স্টার’-কে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্যাহর নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে আরও উপস্থিত ছিলেন সহকারী পরিচালক মাহমুদা আক্তার ও রানা দেবনাথ।
অভিযান শেষে উপপরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্যাহ বলেন, খাদ্যদ্রব্য প্রস্তুত ও সংরক্ষণে এ ধরনের অনিয়ম জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
ভোক্তাদের নিরাপদ খাদ্যপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে মেয়াদোত্তীর্ণ ও দুর্গন্ধযুক্ত উপকরণ ব্যবহার এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের বিরুদ্ধে আমাদের এই নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি


