back to top

চট্টগ্রামে ‘সমন্বয়ক’ পরিচয়ে আটকে রাখা হয় শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তাকে

প্রকাশিত: ১৪ অক্টোবর, ২০২৫ ০৮:৪৪

চট্টগ্রামের ষোলশহর রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় সোমবার রাতে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের সহকারী সচিব ওসমান গণিকে একটি গ্রুপ আটকে রাখে।

তরুণরা নিজেদেরকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক পরিচয় দিয়ে কর্মকর্তার ওপর তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখায় এবং তাকে ঘিরে রাখে।

পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং তাকে থানায় নিয়ে যায়। আজ মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত ওসমান গণি থানার হেফাজতে ছিলেন।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওসমান গণির সঙ্গে ‘সমন্বয়ক’ পরিচয় দেওয়া কয়েকজন তরুণের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তারা তাকে আটক করে।

পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ সোলায়মান বলেন, “সমন্বয়ক পরিচয় দেওয়া কয়েকজন তরুণ ওসমান গণিকে আটকে রাখেন। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং তাকে থানায় নিয়ে আসে। তিনি এখন থানা হেফাজতে আছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম মহানগরের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক আহ্বায়ক ও বর্তমানে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চট্টগ্রাম মহানগরের যুগ্ম সমন্বয়কারী আরিফ মঈনুদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেছেন, ওসমান গণির বিরুদ্ধে বিভিন্ন গণমাধ্যমে দুর্নীতির খবর প্রকাশিত হয়েছে।

শিক্ষার্থীরা তা দেখে প্রতিবাদ জানাতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ এসে তাকে নিয়ে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনাটি শুরু হয় তখন যখন ছাত্ররা শিক্ষাবোর্ড কর্মকর্তার কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করে।

তরুণরা অভিযোগ করে, ওসমান গণি ন্যায্যতা ও স্বচ্ছতার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন না। তারা কর্মসূচি ও অভিযোগের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া জানাতে চেয়েছিলেন।

পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার পরও তারা কর্মকর্তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে থানা হেফাজতে রেখেছেন। পুলিশ ও প্রশাসন এ বিষয়ে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে।

এ ধরনের ঘটনা চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের কর্মকর্তাদের ওপর চাপ বৃদ্ধি করেছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে জনমতের সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা ও দায়বদ্ধতা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সচিবালয় ও স্থানীয় প্রশাসনও এ বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।

শিক্ষাবোর্ডের একজন কর্মকর্তা বলেন, এ ধরনের প্রতিক্রিয়া নতুন নয়, তবে এটি আমাদের দায়িত্ব আরও সতর্কভাবে পালন করতে উদ্বুদ্ধ করছে। কর্মকর্তাদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মতবিনিময় ও সংলাপ বৃদ্ধি করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়ানো যায়।

শিক্ষাবোর্ড ও পুলিশ উভয়ই আশা করছেন, তরুণরা ভবিষ্যতে শান্তিপূর্ণভাবে অভিযোগ জানাবে এবং কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করবে। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে থাকলেও প্রশাসন সতর্ক অবস্থান বজায় রেখেছে।