বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ভোট হলে নিজেদের অস্তিত্ব থাকবে না বলেই জামায়াত নানা অজুহাতে নির্বাচন পেছাতে চায়।
তারা বলছে, পিআর পদ্ধতিতেই ভোট করতে হবে। সেটা না করলে নাকি ভোট হবে না। ভাই, ভোটকে এত ভয় পাচ্ছ কেন? কারণ, তারা জানে, ভোট হলে তাদের কোনো অস্তিত্ব থাকবে না।
মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) দুপুরে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বড়গাঁও ইউনিয়ন বিএনপি আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব।
আরও পড়ুন
এসময় জামায়াতের সমালোচনা করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘তারা কিন্তু ইসলামের অপব্যাখ্যা দিচ্ছে। আমরা মনে করি, আমার কর্মেই হবে আমার বেহেশত। আমার কর্মের মধ্য দিয়ে আমি বেহেশতে যাব।
আমি যদি মানুষকে ভালোবাসি, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ি, রোজা রাখি, মিথ্যা কথা না বলি, সুদ না খাই, তাহলে বেহেশতে যাওয়ার একটি পথ তৈরি হবে।
জামায়াতের টিকিট কাটলেই কি কেউ বেহেশতে যেতে পারবে? যারা এসব মুনাফেকি করে, তাদের কাছ থেকে আমাদের সাবধান থাকতে হবে।’
দীর্ঘ ৯ মাস সংস্কারের নামে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলাপ আলাচনার পরও অমীমাংসিত বিষয়গুলো চাপিয়ে দিতে চাইলে এর দায় অন্তর্বর্তী সরকারকে নিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দীর্ঘ নয় মাস আপনারা (সরকার) সংস্কারের নামে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কথাবার্তা বলেছেন এবং অনেকগুলো বিষয়ে একমত হলেন; সেই একমত হওয়া বিষয়গুলোর বাইরের কোনো কিছু যদি গায়ের জোরে মানুষের ওপর চাপিয়ে দিতে চান, তাহলে সব দায়দায়িত্ব আপনার।
আমরা সংস্কারের যেগুলোতে একমত হয়েছি, বিএনপি শুধু সেগুলোর পক্ষে থাকবে। অন্য কিছুর দায় বিএনপি নেবে না। এর দায় সরকারকেই নিতে হবে।’
এনসিপির প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল ঠাকুরগাঁওয়ের আঞ্চলিক ভাষায় বলেন, ‘ওরা তো ভোটেই পাবে না। এই কারণে ওরাও জামায়াতের সঙ্গে সুর মিলায় কহচে, পিআর আগত দিবা হবে, সনদ বাস্তবায়ন করিবা হবে।’
তিনি বলেন, ‘এগুলো শুধুই বিভ্রান্ত করা। ভোট পেছানো আর আগের ব্যবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়ার চক্রান্ত।’
নির্বাচন পিছিয়ে গেলে দেশ ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হবে উল্লেখ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘দেশের সামনে সব সময় সুযোগ আসে না।
এবার একটি সুযোগ এসেছে। আমাদের সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে সঠিক একটি সরকার গঠন করতে হবে।’



