বয়স ৬০ ছুঁইছুঁই হলেও বলিউড অভিনেতা আমির খানের নতুন লুক দেখে তা বোঝা দায়। কোনো ধরনের জিম বা ব্যায়াম ছাড়াই ১৮ কেজি ওজন কমিয়ে ভক্তদের চমকে দিয়েছেন তিনি।
সামাজিক মাধ্যমে তার এই পরিবর্তন নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা। তবে এই বদলের নেপথ্যে শরীরচর্চা নয়, বরং কাজ করেছে তার বিশেষ খাদ্যাভ্যাস।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে আমির খান জানিয়েছেন, তার ওজন কমানোর নেপথ্যে রয়েছে ‘অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি’ বা প্রদাহ-বিরোধী ডায়েট।
মজার বিষয় হলো, ওজন কমানো তার মূল লক্ষ্য ছিল না। দীর্ঘদিনের যন্ত্রণাদায়ক মাইগ্রেনের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতেই তিনি এই ডায়েট শুরু করেছিলেন।
আমির বলেন, আমি মাইগ্রেনের চিকিৎসার জন্য এই ডায়েট শুরু করেছিলাম। কিন্তু দেখলাম, আমার ১৮ কেজি ওজন কমে গেছে। এটি অনেকটা নিজে থেকেই হয়েছে। বর্তমানে আমার মাইগ্রেনের সমস্যাও অনেক নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
পুষ্টিবিদের মতে, শরীরে ‘ক্রনিক ইনফ্ল্যামেশন’ বা দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ তৈরি হলে ইনসুলিন ও লেপটিন হরমোনের কার্যকারিতা বাধাগ্রস্ত হয়, যা মেদ জমার প্রধান কারণ।
অতিরিক্ত চিনি, প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং মানসিক চাপের ফলে এই সমস্যা দেখা দেয়। আমিরের ক্ষেত্রে প্রদাহ-বিরোধী খাবারগুলো শরীরের মেদ ঝরাতে সাহায্য করেছে।
এর আগে বলিউড অভিনেত্রী বিদ্যা বালানও একই পদ্ধতিতে ওজন কমিয়েছিলেন।
নিজের ডায়েট চার্ট থেকে বেশ কিছু খাবার পুরোপুরি বাদ দিয়েছিলেন আমির খান।
এর মধ্যে রয়েছে চিনিযুক্ত পানীয়, যেমন কোল্ড ড্রিংকস বা প্যাকেটজাত জুস, রিফাইন অয়েল বা সয়াবিন তেল, ফাস্ট ফুড, প্রক্রিয়াজাত মাংস, দুগ্ধজাত পণ্য এবং সাদা চাল বা ময়দার তৈরি খাবার।
মূলত ঘরোয়া ও স্বাস্থ্যকর খাবার খেয়েই নিজেকে আমূল বদলে ফেলেছেন এই তারকা।
ডায়েটের পাশাপাশি আমির খান খাদ্যাভ্যাসে সচেতন থেকেছেন। তিনি প্রচুর পানি পান করেন, ফ্রেশ ফল ও সবজি খাওয়া বজায় রেখেছেন এবং চিনি ও অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলেছেন।
পুষ্টিবিদদের মতে, প্রদাহ কমানো এবং স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণের ফলে শরীরের ওজন কমানো সম্ভব।
ওজন কমার সঙ্গে সঙ্গে তার চেহারার কৌলিন্য, চেহারার গঠন ও শরীরের গঠনও বদলে গেছে। সামাজিক মাধ্যমে ফ্যানরা তার নতুন লুকের প্রশংসা করছেন। কেউ কেউ লিখেছেন, ৬০ বছরে এমন রূপান্তর সত্যিই অনুপ্রেরণামূলক।
অভিনেতা নিজে বলছেন, এই পরিবর্তনের মূল কারণ স্বাস্থ্য এবং দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতা।
তিনি মনে করান, যে কোনো ওজন কমানো বা স্বাস্থ্য পরিবর্তনের পেছনে শরীরচর্চা নয়, খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রার পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ।
সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, ওজন কমানো একদিকে যেমন ফিটনেস বাড়িয়েছে, তেমনি মাইগ্রেনের সমস্যা অনেকটা কমিয়েছে।
এটি প্রমাণ করে যে, খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন কতটা প্রভাবশালী হতে পারে।



