চট্টগ্রাম নগরীর কোতোয়ালী থানাধীন পাথরঘাটা এলাকায় রিয়া দে (২৪) নামে এক তরুণীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে জানানো হলেও, নিহতের পরিবারের অভিযোগ—এটি কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু নয়, বরং দীর্ঘদিনের মানসিক নির্যাতন ও প্ররোচনার ফল।
এ ঘটনায় নিহতের মা ঝুমা দে বাদী হয়ে কোতোয়ালী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, রিয়া দে’র স্বামী রাজন দে এবং তার পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে তাকে মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছিলেন।
পারিবারিক কলহ, চাপ ও নানা ধরনের মানসিক যন্ত্রণার কারণে তিনি চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন।
পরিবারের দাবি, এই নির্যাতনই রিয়া দে’কে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দেয়। এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, এসব নির্যাতন ও প্ররোচনার কারণেই তিনি আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন।
ঘটনার দিন কী ঘটেছিল?
ঘটনার দিন ১৪ এপ্রিল সকালে রিয়া দে তার দুই বছরের কন্যাকে বাপের বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি ছিল একটি অস্বাভাবিক আচরণ, যা এখন সন্দেহের জন্ম দিচ্ছে।
পরে তার স্বামী রাজন দে ফোন করে জানান, রিয়া দে বাথরুমের ভেতরে দরজা বন্ধ করে শাওয়ারের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
ঘটনার দিন সকালে বাসার ভেতরে রিয়া দে’কে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরিবারের অভিযোগ: “এটি পরিকল্পিত প্ররোচনা”
নিহতের পরিবারের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়, বরং স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের দীর্ঘদিনের মানসিক নির্যাতন ও প্ররোচনার ফলেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।
তারা অভিযোগ করেন, রিয়া দে নিয়মিত মানসিক চাপে ছিলেন এবং তাকে নানা ভাবে অপমান ও নির্যাতন করা হতো। এসব কারণে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন।
আইনি পদক্ষেপ
এ ঘটনায় স্বামী রাজন দে-সহ একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে। নিহতের পরিবার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনাটি আত্মহত্যা, নাকি প্ররোচিত মৃত্যু, এটি এখন তদন্তের মূল প্রশ্ন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তেই বেরিয়ে আসবে রিয়া দে’র মৃত্যুর প্রকৃত কারণ।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি



