back to top

গ্যাস-অ্যামোনিয়া সংকটে সার শিল্পে অচলাবস্থা: কৃষিতে শঙ্কা

প্রকাশিত: ১৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১০:৪৭

চট্টগ্রামের আনোয়ারার রাঙ্গাদিয়ায় রাষ্ট্রায়ত্ত ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডে (ডিএপিএফসিএল) অ্যামোনিয়া সংকটের কারণে সার উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে উৎপাদন কার্যক্রম পুরোপুরি স্থগিত করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন কারখানার কর্মকর্তারা।

এর আগে গ্যাস সংকটে গত ৪ মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে দেশের দুই বৃহৎ সার কারখানা—চিটাগং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (সিইউএফএল) ও কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)।

ডিএপিএফসিএলের ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. আলমগীর জলিল জানান, সিইউএফএল ও কাফকো থেকে সংগৃহীত অ্যামোনিয়ার ওপর নির্ভর করেই তাদের উৎপাদন চালু ছিল।

কিন্তু কারখানা দুটি বন্ধ থাকায় অ্যামোনিয়ার সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ডিএপি সার উৎপাদন অব্যাহত রাখা সম্ভব হয়নি।

জানা গেছে, চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় অবস্থিত এই কারখানায় ডিএপি-১ ও ডিএপি-২ নামে দুটি পৃথক ইউনিট রয়েছে। প্রতিটি ইউনিটের দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা ৮০০ মেট্রিক টন। কিন্তু অ্যামোনিয়া সংকটে বর্তমানে উভয় ইউনিটই বন্ধ রয়েছে, ফলে উৎপাদন শূন্যে নেমে এসেছে।

কৃষি খাতে প্রভাবের আশঙ্কা
ডিএপি সার দেশের কৃষি খাতে সুষম সারের ব্যবহার নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নাইট্রোজেন ও ফসফরাস সমৃদ্ধ এই যৌগিক সারের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। উৎপাদন বন্ধ থাকায় কৃষি খাতে সরবরাহ সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্র বলছে, বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) অধীনস্থ ডিএপিএফসিএল ২০০৬ সাল থেকে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করে। তবে গ্যাস সংকটের কারণে একের পর এক কারখানা বন্ধ হয়ে পড়ায় পুরো সার শিল্পেই অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

ডিএপি সার তৈরির অন্যতম প্রধান উপাদান অ্যামোনিয়া গ্যাস, যা সিইউএফএল ও কাফকো থেকে সংগ্রহ করা হয়।

এই দুই কারখানার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অ্যামোনিয়ার ঘাটতি তৈরি হয় এবং তার সরাসরি প্রভাব পড়ে ডিএপি উৎপাদনে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে সার উৎপাদন ও সরবরাহে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে। এতে কৃষি উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি