back to top

বেগম খালেদা জিয়ার প্রকল্প ‘মেরে ফেলল’ চট্টগ্রাম ওয়াসা!

প্রকাশিত: ১৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১০:১৩

চট্টগ্রামের পানি সংকট নতুন কিছু নয়। কিন্তু এই সংকট নিরসনে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলো বছরের পর বছর বাস্তবায়ন না হওয়া প্রশ্ন তুলেছে সংশ্লিষ্ট সংস্থার জবাবদিহিতা নিয়ে।

বিশেষ করে মোহরা পানি শোধনাগার প্রকল্প (পেইজ-২), যা ২০০৩ সালের ৬ নভেম্বর সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া নিজ হাতে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন, সেটি আজও কাগজেই সীমাবদ্ধ।

দুই দশকের বেশি সময় পার হলেও প্রকল্পটির কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। অথচ চট্টগ্রামের মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরে পানি সংকট দীর্ঘদিনের বাস্তবতা।

এই বাস্তবতায় প্রকল্পটির গুরুত্ব ছিল অত্যন্ত বেশি। তারপরও কেন এটি বাস্তবায়িত হয়নি—সেই প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর নেই কারও কাছে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, শুরু থেকেই এটি আটকে পড়ে প্রশাসনিক জটিলতায়। চারদলীয় জোট সরকারের সময় অর্থ ছাড় নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের টানাপোড়েনে কাজ শুরুই করা যায়নি।

পরবর্তী সময়ে ১/১১-এর তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং পরে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও প্রকল্পটি আর এগোয়নি।

এদিকে, একই সময়ে চট্টগ্রামে নতুন একাধিক পানি শোধনাগার প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে চট্টগ্রাম ওয়াসা

ফলে প্রশ্ন উঠেছে—মোহরা পেইজ-২ প্রকল্পটি কি সচেতনভাবেই উপেক্ষিত হয়েছে? স্থানীয় পর্যায়ে অনেকেই মনে করছেন, ভিত্তিপ্রস্তরের সঙ্গে যুক্ত রাজনৈতিক পরিচয় প্রকল্পটির ভাগ্য নির্ধারণে ভূমিকা রেখেছে।

সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, প্রকল্পটির জন্য প্রয়োজনীয় জমি রয়েছে, হালদা নদী থেকে পানি সংগ্রহের সুযোগও রয়েছে। অর্থাৎ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে মৌলিক কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই।

তারপরও এটি বছরের পর বছর পড়ে আছে অযত্নে। সেখানে এখন শুধু একটি নামফলক—যা উন্নয়ন প্রতিশ্রুতির ব্যর্থতার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

চট্টগ্রাম ওয়াসা জাতীয়তাবাদী শ্রমিক কর্মচারী দলের সিনিয়র সহ সভাপতি কাজী মহিন উদ্দিন মানিক অভিযোগ করেন, তাঁকে হয়রানিমূলক বদলি করে মোহরা বিভাগে পাঠানো হয়েছিল।

এরপরও তিনি চেষ্টা করেছেন নামফলক ও ভিত্তিপ্রস্তরের স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণ করতে। তাঁর ভাষায়, “নেত্রীর নামপলক ভাঙতে দিই নাই, আমগাছটাও রক্ষা করেছি। আশা ছিল একদিন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হবে।”

বর্তমান সরকারের প্রতি তিনি দাবি জানিয়েছেন, অবিলম্বে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে চট্টগ্রামের পানি সংকট দূর করতে হবে।

তবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বক্তব্যে মিলছে ভিন্ন চিত্র।

চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম মুঠোফোনে গণমাধ্যমকে জানান, প্রকল্পটি তাঁর যোগদানের আগের হওয়ায় তিনি এ বিষয়ে কিছু জানেন না।

এমন মন্তব্য আরও প্রশ্ন তৈরি করেছে—দুই দশকের একটি প্রকল্প সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট সংস্থার শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা অজ্ঞ থাকেন কীভাবে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শুধু একটি প্রকল্পের ব্যর্থতা নয়; বরং পরিকল্পনা, সমন্বয় ও জবাবদিহিতার ঘাটতির প্রতিফলন।

চট্টগ্রামের মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরে পানি ব্যবস্থাপনায় এমন দীর্ঘসূত্রতা ভবিষ্যতে আরও বড় সংকট ডেকে আনতে পারে।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি