রাজনীতি ডেস্ক : বিএনপি নেতা লুৎফুজ্জামান বাবর ও আবদুস সালাম পিন্টু এবং জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলাম ছিলেন মৃত্যুদণ্ডের আসামি। তাদের প্রত্যেকের মাথার ওপর ঝুলছিল ফাঁসির দণ্ড।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশে ক্ষমতার পালাবদলের পর একে একে তারা কারাগার থেকে বেরিয়ে আসেন।
শেখ হাসিনা সরকারের পতন না হলে তাদের ফাঁসির মঞ্চে ওঠা লাগত বলে লুৎফুজ্জামান বাবর, আবদুস সালাম পিন্টু ও এটিএম আজহারুল ইসলাম ধরেই নিয়েছিলেন।
এই তিন নেতা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়ে জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এখন তারা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন।
লুৎফুজ্জামান বাবর :
নেত্রকোনা-৪ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচিত হয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর। বাবর তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে এক লাখ ২০ হাজার ৯৬১ ভোট বেশি পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।
বাবর পেয়েছেন এক লাখ ৬০ হাজার ৮০১ ভোট পান আর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আল হেলাল পেয়েছেন ৩৯ হাজার ৮৪০ ভোট।
২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু মৃত্যুদণ্ডের আসামি ছিলেন। পরে দুজনকেই আদালত এই মামলা থেকে খালাস দেন।
লুৎফুজ্জামান বাবর ১০ ট্রাক অস্ত্র চোরাচালান মামলায় মৃত্যুদণ্ডের সাজা থেকেও খালাস পান।
২০০৭ সালে তিনি কারাগারে অন্তরীণ হন। ১৭ বছর কারাভোগের পর ২০২৫ সালের ১৬ জানুয়ারি দুপুরে কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান বাবর।
আবদুস সালাম পিন্টু :
টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনে বিএনপির আবদুস সালাম পিন্টু এক লাখ ৯৮ হাজার ২১৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী হুমায়ুন কবির পেয়েছেন মাত্র ৬০ হাজার ৮৭১ ভোট।
২০০৮ সালে জানুয়ারিতে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় গ্রেপ্তার হন আবদুস সালাম পিন্টু। তখন থেকেই তিনি কারাগারে ছিলেন।
২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর দীর্ঘ কারাভোগের পর মুক্তি পান তিনি। টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক আবদুস সালাম পিন্টু
১৯৯১, ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ও ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
এটিএম আজহারুল ইসলাম :
রংপুর-২ (তারাগঞ্জ-বদরগঞ্জ) আসনে বিপুল ভোটে জয় পেয়েছেন জামায়াতে কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম। তিনি এক লাখ ৩৯ হাজার ৬৮০ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মোহাম্মদ আলী সরকার পেয়েছেন ৭৯ হাজার ৯১০ ভোট।
একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশ থেকে খালাস পাওয়ার পর গত বছরের ২৮ মে প্রায় ১৩ বছর কারাবন্দি থাকার পর তিনি মুক্তি পান।
এটিএম আজহারুল ইসলাম ২০১১ সালের ২২ আগস্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে রাজধানীর বড় মগবাজারের বাসা থেকে গ্রেপ্তার হন। তখন তিনি জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল পদে ছিলেন।
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ২০১৪ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এটিএম আজহারুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ড দেন।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি


