বিশ্ব ডেস্ক : নেপালের ধাদিং জেলার গাজুরি এলাকায় রোববার গভীর রাতে একটি যাত্রীবাহী বাস ত্রিশুলি নদীতে উল্টে পড়ে কমপক্ষে ১৮ জন নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় আরও ২৮ জন আহত হয়েছেন।
নেপালের আর্মড পুলিশ ফোর্সের মুখপাত্র বিষ্ণু প্রসাদ ভাট্টা জানিয়েছেন, মোট ৪৬ জন যাত্রী নিয়ে বাসটি পোখরা থেকে রাজধানী কাঠমান্ডু যাওয়ার পথে পৃ্থ্বী হাইওয়ের ধাদিং অংশে দুর্ঘটনার শিকার হয়।
স্থানীয় সময় রাত ১টা ৩০ মিনিটে বাসটি নদীতে পড়ে।
দুর্ঘটনার পর নেপালের সেনাবাহিনী, আর্মড পুলিশ ফোর্স এবং নিয়মিত পুলিশ যৌথভাবে উদ্ধার তৎপরতা চালায়।
উদ্ধার অভিযানে ১৮ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে একজন নিউজিল্যান্ডের নাগরিক।
আহতদের মধ্যে জাপান ও নেদারল্যান্ডসের দুই নারী রয়েছেন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করছে, বাসটির উচ্চগতিই দুর্ঘটনার মূল কারণ হতে পারে। তবে সঠিক কারণ নির্ধারণের জন্য আরও তদন্ত প্রয়োজন।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও যাত্রীদের সাক্ষ্য অনুযায়ী, গাড়িটি একটি তীব্র বাঁকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়তে পারে।
এছাড়া, রাত্রিকালীন অন্ধকার এবং পথের খারাপ অবস্থারও দুর্ঘটনায় ভূমিকা থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নেপালের সড়ক দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পাহাড়ি এলাকায় গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারানো এবং অত্যধিক গতি বড় ধরনের দুর্ঘটনার প্রধান কারণ।
প্রতি বছর পাহাড়ি পথে বহু বাস ও যানবাহন দুর্ঘটনার শিকার হয়, যার মধ্যে অনেকেই প্রাণ হারান। সরকার ও স্থানীয় প্রশাসন নিয়মিতভাবে সড়ক নিরাপত্তা ও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে।
রেসকিউ ও উদ্ধার অভিযানে নেপালের সেনা ও পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরা অংশ নেন।
তারা নদী থেকে বাসের ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে আহতদের উদ্ধার করেছেন। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় হাসপাতালে জরুরি প্রস্তুতি নেওয়া হয়।
নেপালের পরিবহন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে। দুর্ঘটনার দায় নির্ধারণ এবং সড়ক নিরাপত্তা বৃদ্ধির জন্য সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।
স্থানীয় বাস সংস্থার নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়েও তদন্ত করা হচ্ছে।
এই দুর্ঘটনা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়েরও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। নিহত ও আহত যাত্রীদের মধ্যে বিদেশি নাগরিক থাকায় তাদের দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
এ ধরনের দুর্ঘটনা পথচারী ও যাত্রীদের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উচ্চগতিতে গাড়ি চালানো ও পাহাড়ি পথে অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণের জন্য কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি



