সিটিজি নিউজ টুডে : চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, চসিকের সকল কর্মকর্তা ও বিভাগকে সমন্বিতভাবে কাজ করে চট্টগ্রামকে একটি ক্লিন, গ্রিন ও নিরাপদ সিটি হিসেবে গড়তে একযোগে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, নগরীর সৌন্দর্য, পরিবেশ ও পথচারী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে দৃশ্যমান কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।
মেয়র আজ টাইগারপাসস্থ চসিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই সব কথা বলেন ।
সভায় মেয়র আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, নগরীর সড়কসমূহের পাশে সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রম যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে কিনা তা নিয়মিত তদারকি করতে হবে।
নালার ওপর স্ল্যাব রয়েছে কিনা এবং সড়কের ম্যানহোলের ঢাকনা সঠিক অবস্থায় আছে কিনা তা সরেজমিনে যাচাই করার নির্দেশ দেন তিনি।
কোথাও স্ল্যাব বা ম্যানহোল অনুপস্থিত থাকলে দ্রুত প্রকৌশল বিভাগকে অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চিত করার কথা বলেন।
মেয়র নগর পরিকল্পনা বিভাগের আওতাধীন সড়কের গাছের পরিচর্যায় নিজস্ব মালি ও কর্মীদের কার্যক্রম তদারকির দায়িত্ব আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাদের ওপর ন্যস্ত করেন।
তিনি বলেন, সবুজায়ন ও পরিচ্ছন্নতা একসঙ্গে এগিয়ে নিতে হবে। ক্লিন ও গ্রিন সিটির ধারণা বাস্তবায়নে নিয়মিত পরিচর্যা, রক্ষণাবেক্ষণ ও মনিটরিং অত্যন্ত জরুরি।
মেয়র আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।
১ নম্বর ওয়ার্ড থেকে শুরু হওয়া জরিপ কার্যক্রম নির্ভুলভাবে সম্পন্ন করে প্রকৃত উপকারভোগীদের মাঝে কার্ড বিতরণ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন তিনি।
পাশাপাশি চসিকের তত্ত্বাবধানে স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম বেগবান করতে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেন।
ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল খনন কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জরুরি।
তিনি চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং চট্টগ্রাম ওয়াসাসহ সংশ্লিষ্ট সেবা সংস্থাগুলোর সঙ্গে বৈঠকের আয়োজন করে হিজড়া খালসহ অন্যান্য খালের খনন কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন।
সভায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আমিন বলেন, নগরীর বিমানবন্দর এলাকা থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও আইল্যান্ডসমূহ নান্দনিকভাবে সাজালে নগরীর সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে।
সড়কের পাশে স্থাপিত পিলারগুলো রঙিন করা এবং মিডিয়ান আইল্যান্ডে পরিকল্পিত বাগান তৈরির পরামর্শ দেন তিনি।
পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে যত্রতত্র নির্মাণসামগ্রী ফেলে রাখায় সড়ক সংকুচিত হয়ে যানজট ও পরিবেশদূষণের সৃষ্টি হচ্ছে উল্লেখ করে এ সমস্যা মোকাবেলায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনার প্রস্তাব দেন।
সভায় চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাবৃন্দ এবং প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি


