সামান্য কলা চুরি, চরম নৃশংসতা: সামান্য তর্কে অ্যাডভোকেট ক্লার্ককে পিটিয়ে হত্যা

প্রকাশিত: ০১ আগস্ট, ২০২৬ ১৪:২৯

সামান্য বাড়ির গাছের কলা চুরি-আর তা নিয়ে গড়ে ওঠা সামান্য কথাকাটাকাটিই কেড়ে নিল এক সম্ভাবনাময় মানুষের প্রাণ।

চট্টগ্রামের পটিয়ায় প্রতিবেশীদের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডা ও পূর্ববিরোধের মর্মান্তিক পরিণতিতে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে মোহাম্মদ তোহা (৪৫) নামের এক যুবককে।

শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে উপজেলার হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মোনাফ হাজীর পাড়া নতুনবাড়ি এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহত তোহা পটিয়া অ্যাডভোকেট ক্লার্কস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি ওই এলাকার মৃত আবুল বশরের ছেলে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রের বরাতে জানা যায়, শুক্রবার রাতে তোহার বাড়ির গাছের কলা চুরি যাওয়াকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী এজাহার মিয়ার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি শুরু হয়।

দুই পরিবারের মধ্যে আগে থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে চাপা বিরোধ চলছিল। পুরনো সেই অসন্তোষের জেরে তুচ্ছ কলা চুরির ঘটনাটি মুহূর্তেই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়।

অভিযোগ উঠেছে, কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের লোকজন সংঘবদ্ধ হয়ে তোহার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। লোহার রড ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তার মাথায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করা হয়। রক্তভেজা শরীরে গুরুতর আহত তোহা ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন।

পরে স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে পটিয়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের স্বজনদের আকুতি, সামান্য কলা চুরির প্রতিবাদ করা কি তোহার অপরাধ ছিল? ওরা যেভাবে লোহার রড দিয়ে ওকে পিটিয়ে মারল, আমরা এর কঠোর বিচার চাই।

পুলিশের তাৎক্ষণিক অভিযান, অভিযুক্তরা পলাতক

এদিকে ঘটনার পরপরই পটিয়া থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। স্থানীয়দের সহায়তায় হামলায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে এজাহার মিয়ার ছেলে আনোয়ার হোসেন (২৯) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

তবে হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই অভিযুক্ত পরিবারের অন্য সদস্যরা বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে গেছে।

পটিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ শফিক উল্লাহ জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর মূল কারণ সম্পর্কে আরও নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক বলেন, কলা চুরির মতো একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই প্রতিবেশীর মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে এবং এতে তোহা মারা যান।

এ ঘটনায় ইতিমধ্যেই একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের ধরতেও অভিযান চলছে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।

মোহাম্মদ তোহার এই অকাল ও নৃশংস মৃত্যুতে পটিয়া আইনি অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পটিয়া আইনজীবী সমিতির পাঠাগার সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামাল হোসেন চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মোহাম্মদ তোহা অত্যন্ত শান্ত, বিনয়ী ও ভদ্র স্বভাবের মানুষ ছিলেন। সাধারণ একটি বিষয় নিয়ে এত বড় নৃশংসতা মেনে নেওয়া যায় না।

আমরা এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

সামান্য একটি ঘটনার জেরে ঝরে গেল একটি তাজা প্রাণ। বর্তমানে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোক ও থমথমে পরিস্থিতি।

পুলিশ অভিযুক্তদের ধরতে সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি