পাহাড়ি জনপদ বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারীতে এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে বাইশারী ইউনিয়নের ছাদুঅং পাড়া এলাকার একটি বৌদ্ধ মন্দিরের পার্শ্ববর্তী নির্জন স্থান থেকে জাফর আলম বাবুল (৩৮) নামের এক কাঠ ব্যবসায়ীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিহত জাফর আলম বাইশারী এলাকার ওসমান গনির ছেলে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকালে ছাদুঅং পাড়া বৌদ্ধ মন্দিরের পাশে রক্তের দাগ ও একটি নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে আঁতকে ওঠেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কাছে গিয়ে তারা বাইশারীর পরিচিত কাঠ ব্যবসায়ী জাফর আলমের ক্ষতবিক্ষত ও গলাকাটা মরদেহ শনাক্ত করেন।
খবর ছড়িয়ে পড়তেই মুহূর্তের মধ্যে ঘটনাস্থলে শত শত উৎসুক জনতার ভিড় জমে এবং স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে দ্রুত অকুস্থলে পৌঁছায় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর যৌথ টহল দল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তাৎক্ষণিক ও দূরদর্শী হস্তক্ষেপে বড় ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হয় এবং এলাকার পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে আসে।
পরবর্তীতে পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।
হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কারণ খুঁজতে গিয়ে বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। স্থানীয় অধিবাসীরা জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাতে দেনাপাওনা ও আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিষয় নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ওই মন্দির এলাকাতেই একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
ধারণা করা হচ্ছে, সেই দেনাপাওনার বিরোধই হয়তো কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে জাফর আলমের জীবনে।
ঘটনার পরপরই পুলিশি অভিযানে নেমে ছাদুঅং পাড়া এলাকা থেকে মংক্যচিং মারমা নামে এক ব্যক্তিকে সন্দেহের তালিকায় রেখে আটক করা হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের সত্যতা নিশ্চিত করে বাইশারী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মনিরুজ্জামান জানান, খবর পাওয়ার পরপরই আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছি। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
পুলিশি এজাহার ও মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ঘটনার নেপথ্যে মূল কী কারণ ছিল, তা নিবিড় তদন্ত শেষে নিশ্চিতভাবে বলা যাবে।
পাহাড়ি উপত্যকার এই শান্ত জনপদে হঠাৎ এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডে শোকের ছায়া নেমে এসেছে নিহতের পরিবারে।
সাধারণ মানুষের দাবি, কোনো প্রভাবশালী বা অপরাধী যেন পার না পায়; ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত খুনিদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি


