চট্টগ্রাম নগরীর ব্যস্ততম আগ্রাবাদ এক্সেস রোড ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিনের আতঙ্কের প্রতিশব্দ হয়ে ওঠা এই শীর্ষ ছিনতাইকারীকে অবশেষে আইনের আওতায় এনেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ঠিক ১২টা। পুরো হালিশহর এলাকা তখন প্রায় নিঝুম। ঠিক সেই মুহূর্তে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআই জাহিদের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল সিডিএ ২৩ নম্বর রোডে ঝটিকা অভিযান চালায়।
অপরাধের আস্তানা ঘেঁষে নেওয়া এই অভিযানে কেবল পুলিশই নয়, অতিষ্ঠ স্থানীয় বাসিন্দারাও বাড়িয়ে দেন সহযোগিতার হাত। সবার যৌথ প্রচেষ্টায় শেষ রক্ষা হয়নি বিজয়ের-ঘটনাস্থলেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিজয়ের বিরুদ্ধে আগ্রাবাদ এক্সেস রোডসহ পুরো এলাকায় বেপরোয়া ছিনতাইয়ের অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। এর আগে বিজয়ের অন্যতম প্রধান সহযোগী শাফায়েত গ্রেপ্তার হলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায় সে।
পুলিশের নজর এড়িয়ে অত্যন্ত চতুরতার সাথে একের পর এক ছিনতাই কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল বিজয়ের নেতৃত্বাধীন গ্যাংটি।
সাম্প্রতিক সময়ে এক গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে আগ্রাবাদ এক্সেস রোড এলাকার এক ডজন দুর্ধর্ষ ছিনতাইকারীর তালিকা উঠে আসে, যেখানে অপরাধের চেইন অব কমান্ডের একদম শীর্ষে ছিল বিজয়ের নাম।
মূলত নিরীহ ভ্যানগাড়ি চালক, গার্মেন্টস কর্মী এবং প্রতিদিনের অফিসগামী মানুষদের টার্গেট বানিয়ে সর্বস্ব লুটে নেওয়াই ছিল তাদের মূল কাজ। এসব ঘটনায় ভুক্তভোগীদের পাহাড়সম অভিযোগ জমা পড়ে স্থানীয় থানায়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে হালিশহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, অপরাধীদের বিরুদ্ধে পুলিশের অবস্থান জিরো টলারেন্স। বিজয়ের পাশাপাশি গ্রেপ্তারকৃত সহযোগী শাফায়েতের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
নগরবাসীর প্রত্যাশা, বিজয়ের গ্রেপ্তারের মাধ্যমে আগ্রাবাদ ও আশপাশের রাস্তায় ফের ফিরে আসবে স্বস্তি ও নিরাপদ যাতায়াতের পরিবেশ।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি


