কাজের খোঁজে পাহাড়ে লেবুবাগানে গিয়ে মহিষের আক্রমণে কৃষকের মর্মান্তিক মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৩:৫০

ভোরের সূর্য ওঠার আগেই প্রতিদিনের মতো পাহাড়ি লেবু বাগানের উদ্দেশ্যে ঘর ছেড়েছিলেন ৫৫ বছর বয়সী কৃষক আবদুল মাবুদ। দিনভর হাড়ভাঙা খাটুনি শেষে বিকেলের রোদ পোহাতে পোহাতে ফিরে আসার কথা ছিল আপনজনদের মাঝে।

কিন্তু গোধূলি পেরিয়ে আঁধার নেমে এলেও আর ফেরা হলো না তার। অবুঝ ও উন্মুক্ত পাহাড়ি মহিষের একটি নির্মম গুঁতো এক মুহূর্তেই স্তব্ধ করে দিল পুরো পরিবারটির হাসিমুখ, থমকে দিল একটি জীবনের চলমান গল্প।

ঘটনাটি ঘটেছে চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার কড়লডেঙ্গা ইউনিয়নের ডুমুরিয়া খালের পাশের একটি লেবু বাগানে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাতে সেখান থেকেই উদ্ধার করা হয় নিথর দেহটি। নিহত আবদুল মাবুদ কড়লডেঙ্গা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চম্পা তালুকদার পাড়ার মৃত ইউছুপ নবীর ছেলে।

সংসার জীবনে তিনি দুই মেয়ে ও তিন ছেলের দায়িত্বশীল জনক ছিলেন। নিজস্ব লেবু বাগানে শ্রম দেওয়ার পাশাপাশি কাইক শ্রমে পাহাড়ে নানা জাতের শস্য ফলাতেন তিনি।

স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাধারণ নিয়ম মেনে বৃহস্পতিবার সকালেও হাসিমুখে কাজের উদ্দেশ্যে বের হন মাবুদ। বিকেলে ৫টার মধ্যে বাড়ি ফিরে আসাটাই ছিল প্রতিদিনের অভ্যাস। কিন্তু ঘড়ির কাঁটা গড়িয়ে সন্ধ্যা নামলেও তার কোনো খোঁজ না মেলায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা।

স্বজনদের মন কোনো এক অজানা আশঙ্কায় কেঁপে ওঠে। এরপর স্থানীয়দের সাথে নিয়ে পাহাড়ি লেবু বাগানের পথ ধরেন তারা। দীর্ঘ খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে ডুমুরিয়া খালের ধারে নির্জন লেবু বাগানের মাটিতে তাকে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়।

নিহতের ভাগিনা সাগর তালুকদার শোকার্ত কণ্ঠে বলেন, মামা প্রতিদিনের মতো বাগানে গিয়াছিলেন। বিকেল পেরিয়ে গেলেও ঘরে না আসায় আমরা খুঁজতে বের হই।

পরে বাগানে গিয়ে তার নিথর দেহ পাই। শরীরে তীব্র আঘাতের ক্ষতচিহ্ন ছিল। আমরা নিশ্চিত, পাহাড়ে থাকা বুনো মহিষের হামলায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণেই তার এমন মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

পাহাড়জুড়ে পশু চারণের চরম অনিয়ম ও অসচেতনতার করুণ সাক্ষী হয়ে রইল এই দুর্ঘটনা।

বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাফফর হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পাহাড়ে ছাড়া মহিষের গুঁতোয় এক ব্যক্তি নিহত হওয়ার খবর পেয়েছেন তারা।

ওই পাহাড়ি অঞ্চলে বেশ কয়েকটি উন্মুক্ত মহিষের পাল চড়ে বেড়ায়, যার ফলে যেকোনো সময় বড় ধরনের বিপদের আশঙ্কা থেকে যায়।

একমুঠো অন্ন জোগাতে পাহাড়ে যাওয়া আবদুল মাবুদের এই অসময় ও নির্মম প্রস্থান এখন বোয়ালখালীর কড়লডেঙ্গায় এক গভীর বিষাদের ছায়া ফেলে গেছে।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি