৫৬ দিনের ব্যবধানে চুয়েটে উপাচার্য বদল, স্বপদে পুনর্বহালের দাবিতে উত্তাল ক্যাম্পাস

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৪:৫৭

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) প্রশাসনিক অঙ্গনে হঠাৎ ঘনীভূত হয়েছে অস্থিরতার মেঘ।

মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় উপাচার্য পদে পরিবর্তন এনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত প্রজ্ঞাপনকে ঘিরে চুয়েট প্রাঙ্গণে সৃষ্টি হয়েছে নজিরবিহীন উত্তেজনা।

সদ্য অপসারিত উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে স্বপদে পুনর্বহালের দাবিতে আজ মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকেই উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত রাখা এবং ক্যাম্পাসে সর্বাত্মক ‘শাটডাউন’ পালনের ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

গত ২৭ জুলাই চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম।

কিন্তু কোনো দৃশ্যমান কারণ ছাড়াই গত সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাঁকে পদ থেকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় নেওয়া এ আকস্মিক সিদ্ধান্তকে ‘অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য’ হিসেবে অভিহিত করেছেন আন্দোলনকারীরা।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর একজন শিক্ষার্থীবান্ধব ও সদিচ্ছাসম্পন্ন অভিভাবক পাওয়ার পর এভাবে কারণ দর্শানো ব্যতিরেকে তাঁকে অব্যাহতি দেওয়াকে প্রশাসনিক অসংগতি হিসেবে দেখছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

মধ্যরাতের উত্তাপ

নিয়োগ প্রজ্ঞাপন প্রকাশের পরপরই সোমবার রাত সাড়ে ১০টায় চুয়েটের স্বাধীনতা চত্বর থেকে এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের হয়।

মিছিলটি ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ একাডেমিক ভবন, ছাত্রী হল ও শিক্ষক আবাসিক এলাকা প্রদক্ষিণ করে। গভীর রাতে আয়োজিত এ মিছিলে ছাত্রীদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো।

রাত ১২টার দিকে মিছিলটি পুনরায় স্বাধীনতা চত্বরে ফিরে আসে এবং আন্দোলনকারীরা উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। রাতভর চলা এই প্রতিবাদ ও স্লোগানে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পুরো চুয়েট ক্যাম্পাস, যা মঙ্গলবার সকালেও অব্যাহত থাকে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রশাসনিক স্থায়িত্ব অত্যন্ত জরুরি। যেকোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উপাচার্যের ঘনঘন পরিবর্তন বা কোনো প্রকার স্বচ্ছতা ছাড়া পদ অপসারণ স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ও প্রশাসনিক গতিশীলতাকে ব্যাহত করে।

চুয়েটের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, অধ্যাপক সায়েমের সংক্ষিপ্ত কার্যকালে তিনি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছিলেন।

ফলে তাঁর হঠাৎ অপসারণ কেবল একজন ব্যক্তির পদচ্যুতি নয়, বরং প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা ভঙ্গের একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে দেখা দিয়েছে।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি