চট্টগ্রাম বহির্নোঙ্গর-চারিদিকে নিশুতি রাতের নিস্তব্ধতা আর বঙ্গোপসাগরের উত্তাল জলরাশি।
বাণিজ্য জাহাজগুলোর নিরাপত্তায় যখন পুরো দেশ নিশ্চিন্তে ঘুমায়, তখনো একদল জাগ্রত প্রহরী সাগরের বুকে অটল।
গত ২২ জুলাই রাত তখন আনুমানিক সাড়ে ১১টা। অন্ধকার আর ঢেউয়ের সুযোগ নিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে সরকারি সম্পদ ও চোরাই মালামাল হাতিয়ে নেওয়ার ছক কষেছিল একদল সুবিধাবাদী ভাসমান কারবারি।
কিন্তু তাদের সেই পরিকল্পনা ভেস্তে দিল বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের প্রখর নজরদারি।
গোপন সূত্রে খবর পৌঁছায় কোস্টগার্ড পূর্বজোনের কাছে-বহির্নোঙ্গর এলাকায় সন্দেহজনক তৎপরতা চালাচ্ছে একদল চোরাকারবারি।
খবর পাওয়া মাত্রই উত্তাল সাগরে ভাসমান ঘাঁটি থেকে দিক পরিবর্তন করে কোস্টগার্ডের জাহাজ ‘শ্যামল বাংলা’।
অত্যন্ত সাহসিকতা ও সতর্কতার সাথে রাত সাড়ে ১১টার দিকে তারা ঘিরে ফেলে সন্দেহভাজন এলাকাটি।
অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে একটি লাইফ বোটে করে চম্পট দেওয়ার চেষ্টা করছিল চক্রটি।
কিন্তু কোস্টগার্ডের চৌকস দল দ্রুত বোটটিকে ঘিরে ফেলে এবং তল্লাশি চালায়।
তল্লাশিতে বেরিয়ে আসে চমকপ্রদ তথ্য-বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে সুকৌশলে চুরি করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ মালামাল।
কোস্টগার্ড টিম ১ হাজার ২০ কেজি স্ক্র্যাপ, ১টি ওয়্যার সিলিং ও ২টি গ্যাস সিলিন্ডার উদ্ধার করা হয়। এ সময় এসব চোরাই মালামালের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৬ জন চোরাকারবারিকে আটক করে কোস্টগার্ড।
কোস্টগার্ড পূর্বজোনের মিডিয়া কর্মকর্তা সুমন আল মুকিত জানান, কোস্টগার্ড জাহাজ ‘শ্যামল বাংলা’র এই তাৎক্ষণিক ও সফল অভিযানে চোরাই মালামালসহ ১৬ জনকে আটক করা সম্ভব হয়েছে।
সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও চোরাচালান প্রতিরোধে কোস্টগার্ডের এই কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে।
জব্দকৃত মালামাল, চোরাচালানে ব্যবহৃত বোট এবং আটককৃত চোরাকারবারিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
সমুদ্রপথের নিরাপত্তা বিধান এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য জাহাজের আস্থা ধরে রাখতে কোস্টগার্ডের এই অভিযান এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
রাতের আঁধারে যারা সাগরের বুক থেকে চোরাচালানের মাধ্যমে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করে, তাদের জন্য এই অভিযান একটি সুস্পষ্ট সতর্কবার্তা।
আটককৃতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের মাধ্যমে তাদের আদালতে সোপর্দ করার কার্যক্রম চলছে।
সাগরের বুকে অপরাধ নির্মূলে কোস্টগার্ডের এমন তৎপরতা সর্বমহলে প্রশংসিত হচ্ছে।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি

