কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তির জয়জয়কারের এই যুগে জালিয়াতির কৌশলও রূপ নিয়েছে ‘হাইটেক’ রূপ।
পরীক্ষার হলে চুপিচুপি প্রশ্নপত্রের ছবি তুলে মুহূর্তের মধ্যেই এআই অ্যাপ থেকে উত্তর বের করে তা দেখে দেখে লিখছিলেন এক পরীক্ষার্থী।
ভেবেছিলেন প্রযুক্তির এই চালাকি হয়তো কারও চোখ এড়াবে। কিন্তু পরিদর্শকের কড়া নজরদারিতে হাতেনাতে ধরা পড়ে শেষমেশ কেন্দ্র থেকেই বহিষ্কৃত হতে হলো তাঁকে।
আজ সোমবার চট্টগ্রাম নগরের সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ কেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষা চলাকালে এই নজিরবিহীন ঘটনাটি ঘটে। বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী নগরের একটি কলেজের মানবিক বিভাগের পরীক্ষার্থী।
যেভাবে ধরা পড়ল ‘এআই জালিয়াতি’
আজ পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, জীববিজ্ঞান (তত্ত্বীয়) প্রথম পত্র, ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা প্রথম পত্র এবং খাদ্য ও পুষ্টি প্রথম পত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছিল।
কেন্দ্র সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর কৌশলে সঙ্গে আনা মুঠোফোন দিয়ে প্রশ্নপত্রের ছবি তুলে নেন ওই পরীক্ষার্থী। ছবি তুলতেই ফোনে থাকা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অ্যাপ প্রশ্নের নিখুঁত উত্তর তৈরি করে দেয়। এরপর স্ক্রিনে ভেসে ওঠা উত্তর দেখে দেখে পরীক্ষার খাতায় উত্তর লিখতে শুরু করেন তিনি।
পরীক্ষার হলে বসে মুঠোফোন ব্যবহারের অস্বাভাবিক নড়াচড়া কেন্দ্র পরিদর্শকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
সন্দেহ হলে পরিদর্শক তাৎক্ষণিক তল্লাশি চালিয়ে তাঁর কাছ থেকে সচল মুঠোফোন উদ্ধার করেন এবং এআই অ্যাপ দিয়ে নকল করার প্রমাণ পান। পরে বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী ফোনটি বাজেয়াপ্ত করে ওই পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নগরের একটি কলেজের মানবিক বিভাগের এক পরীক্ষার্থী মুঠোফোনসহ ধরা পড়েন।
তিনি মুঠোফোন থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে নকল করছিলেন। নিয়ম অনুযায়ী তাঁকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং ব্যবহৃত মুঠোফোনটি জব্দ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, বন্যা-পরবর্তী প্রতিকূল পরিস্থিতি, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা এবং পরীক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা বিবেচনায় গত ১৬ জুলাই চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের বাকি পরীক্ষাগুলো স্থগিত করা হয়েছিল। এর আগে ৮ জুলাই থেকেও বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিত ছিল।
দীর্ঘ বিরতি শেষে আজ চট্টগ্রাম বোর্ডের অধীনে ৫টি জেলার ১১৪টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। মোট ৭৭,৫৫৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ৭৫,৭৩১ জন। অনাকাঙ্ক্ষিত কারণে অনুপস্থিত ছিলেন মোট ১,৮২৫ জন শিক্ষার্থী।
জেলাভিত্তিক হিসাবে, চট্টগ্রামে অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১ হাজার ২০২ জন। এ ছাড়া কক্সবাজারে ২৬৩ জন, খাগড়াছড়িতে ১৫৪ জন, রাঙামাটিতে ১০৯ জন এবং বান্দরবানে ৯৭ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন।
প্রযুক্তির অগ্রগতিকে কাজে লাগিয়ে অসদুপায় অবলম্বনের এই নতুন ফাঁদ শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের যেমন চিন্তায় ফেলেছে, তেমনি পরিদর্শকের সজাগ নজরদারি প্রমাণ করেছে-প্রযুক্তি যতই আধুনিক হোক, পরীক্ষার স্বচ্ছতা রক্ষা ও নিয়ম ভঙ্গকারীদের ঠেকাতে কড়া নজরদারির কোনো বিকল্প নেই।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি

