back to top

এক টানেই শত মণ ইলিশ!

সৌভাগ্যের জালে জেলেপাড়ায় হাসি

প্রকাশিত: ০৬ এপ্রিল, ২০২৬ ০৯:৪১

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সেন্ট মার্টিনের অদূরে বঙ্গোপসাগরে যেন এক বিরল সৌভাগ্যের দেখা পেলেন জেলেরা।

দীর্ঘদিনের হতাশা আর লোকসানের গল্পের মাঝেই হঠাৎ করে এক জালেই ধরা পড়ল প্রায় শত মণ ইলিশ—যা বিক্রি হয়ে গেছে ৩৩ লাখ টাকায়। এমন ঘটনায় খুশির ঢেউ বইছে পুরো জেলেপাড়ায়।

রবিবার (৫ এপ্রিল) ভোরে উপজেলার শাহপরীর দ্বীপ জালিয়া পাড়ার আবুল কালামের মালিকানাধীন ‘এফবি দ্বীপ’ নামের ট্রলারের জেলেরা এই বিপুল পরিমাণ ইলিশ ধরতে সক্ষম হন।

পরে বিকাল ৪টায় শাহ পরীর দ্বীপ জেটি ঘাটের একটি মৎস্য আড়তে নিলামের মাধ্যমে মাছগুলো বিক্রি করা হয়। ব্যবসায়ী ফারুক মণপ্রতি প্রায় ৩৩ হাজার টাকায় ইলিশগুলো কিনে নেন।

ট্রলারের মাঝি নুরুল ইসলাম জানান, গত শুক্রবার সকালে ১৫ জন জেলে নিয়ে তারা সেন্টমার্টিন সংলগ্ন সাগরে মাছ ধরতে যান।

প্রথমদিকে তেমন কোনো সাড়া না পেলেও রবিবার ভোরে হঠাৎ করেই তাদের জালে ধরা পড়ে প্রায় ১০১ মণ ইলিশ। দীর্ঘদিন পর এমন প্রাচুর্য দেখে স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠেন জেলেরা।

শাহপরীরদ্বীপ ক্ষুদ্র মৎস্য সমিতির সভাপতি আবদুল গণি বলেন, “অনেক দিন ধরেই সাগরে ইলিশ কম ধরা পড়ছে। এতে জেলেদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। তবে এবার ভালো ইলিশ ধরা পড়ায় তারা বেশ খুশি।”

মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে ইতিবাচক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। টেকনাফ সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার প্রতিনিধি শহিদুল আলম বলেন, “সরকারি নির্দেশনায় নির্দিষ্ট সময় মাছ ধরা বন্ধ রাখার ফলে ইলিশের প্রজনন ও আকার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

প্রতি বছর ৬৫ দিন মাছ ধরা ও বিপণনে নিষেধাজ্ঞা এবং ২০১১ সাল থেকে অক্টোবর মাসে অতিরিক্ত ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা জেলেদের মেনে চলতে হয়। এর সুফলই এখন মিলছে।”

এই ঘটনা শুধু একটি বড় মাছ ধরার গল্প নয়; বরং এটি জেলেদের জন্য আশার আলো।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এমন সাফল্য তাদের জীবনে নতুন উদ্দীপনা এনে দিয়েছে। সাগরের বুক থেকে উঠে আসা এই রূপালি ফসল যেন আবারও প্রমাণ করল—সময়ের অপেক্ষা আর সঠিক ব্যবস্থাপনা থাকলে প্রকৃতি তার ভাণ্ডার উজাড় করে দিতেই পারে।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি