back to top

রূপায়ন গ্রুপের অবৈধ খেলায় জড়ালেন সাবেক ম্যাজিস্ট্রেট রোকন!

ভেজালবিরোধী নায়ক’ থেকে জালিয়াতির আসামি

প্রকাশিত: ০৬ মে, ২০২৬ ১২:২৯

একসময় খাদ্যে ভেজালের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থানের কারণে দেশজুড়ে ‘জননায়ক’ হিসেবে পরিচিতি পাওয়া সাবেক ম্যাজিস্ট্রেট রোকন উদ-দৌলা এখন গুরুতর জালিয়াতি, প্রতারণা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে অভিযুক্ত।

যে ব্যক্তি একদিন ভেজালবিরোধী অভিযানে জনআস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন, তিনিই এখন বিতর্কিত করপোরেট স্বার্থ রক্ষার অভিযোগে কাঠগড়ায়।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় তার নাম উঠে আসায় জনমনে সৃষ্টি হয়েছে বিস্ময়, ক্ষোভ এবং তীব্র প্রশ্ন।

দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, রূপায়ন গ্রুপের আলোচিত প্রকল্প ‘রূপায়ন সিটি’কে কেন্দ্র করে সংঘটিত এক বিশাল ভূমি জালিয়াতির পেছনে রোকন উদ-দৌলার সক্রিয় ভূমিকা ছিল।

অভিযোগ অনুযায়ী, অবসরের পর তিনি ওই গ্রুপের উপদেষ্টা হিসেবে যোগ দেন এবং এর আগেই রাজউকের লিগ্যাল অফিসারসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকার সময় ক্ষমতার অপব্যবহার করে গ্রুপটিকে অবৈধ জমি নকশা ও নথিপত্র অনুমোদনে সরাসরি সহায়তা করেন।

অর্থাৎ, রাষ্ট্রের আইনি কাঠামো রক্ষার দায়িত্বে থাকা একজন কর্মকর্তা সেই কাঠামোকেই ব্যবহার করেছেন বেসরকারি স্বার্থসিদ্ধির হাতিয়ার হিসেবে।

মামলার এজাহারে উঠে এসেছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। আসামিরা যোগসাজশ করে মাত্র ১৬ একর জমিকে কাগজে-কলমে ৪১ একরে রূপান্তর করেছেন—যা নিছক প্রশাসনিক ত্রুটি নয়, বরং সুপরিকল্পিত জালিয়াতির সুস্পষ্ট প্রমাণ।

এই অতিরিক্ত জমির বড় একটি অংশ গাজীপুর সংলগ্ন ভাওয়াল এস্টেটের সরকারি দেবোত্তর সম্পত্তি, যা সরাসরি জনস্বার্থের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।

এই প্রক্রিয়ায় প্রায় ১০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে, যা কেবল আর্থিক অপরাধ নয়—রাষ্ট্রের সম্পদের ওপর সংঘটিত এক ধরনের নীরব লুণ্ঠন।

এই বহুল আলোচিত মামলায় রূপায়ন গ্রুপের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খান মুকুল, তার স্ত্রী, পুত্র ও ভাইসহ মোট ৪৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।

এতে স্পষ্ট হয়, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে পরিচালিত জালিয়াতির চিত্র।

সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি এখন ঘুরপাক খাচ্ছে জনমনে—একসময়ের ‘ভেজালবিরোধী নায়ক’ কীভাবে এমন একটি বিতর্কিত করপোরেট গোষ্ঠীর অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে পড়লেন?

এটি কি কেবল ব্যক্তিগত নৈতিকতার পতন, নাকি দীর্ঘদিনের ক্ষমতা ব্যবহারের ফলে তৈরি হওয়া দায়মুক্তির সংস্কৃতিরই প্রতিফলন?

রোকন উদ-দৌলার এই রূপান্তর কেবল একজন ব্যক্তির পতনের গল্প নয়; এটি আমাদের প্রশাসনিক কাঠামোর ভেতরে লুকিয়ে থাকা দুর্বলতা, জবাবদিহিতার অভাব এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের গভীর সংকটকে সামনে নিয়ে এসেছে।

জনআস্থার প্রতীক থেকে বিতর্কের কেন্দ্রে—এই পথচলা এখন দেশের প্রশাসন ও নৈতিকতার প্রশ্নে এক কঠিন বাস্তবতার আয়না হয়ে দাঁড়িয়েছে।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি