back to top

বাবার হাত ধরে বেরিয়েছিল ছেলে, দু’জনই ফিরল লাশ হয়ে-ক্ষোভে জ্বলল বাস

প্রকাশিত: ০১ জুন, ২০২৬ ০৮:১০

মুহাম্মদ শাহজাহান ও ছেলে মুহাম্মদ আরিফের মর্মান্তিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া; চালক আটক, আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি পুলিশের

চট্টগ্রাম নিউজ টুডে : একটি সাধারণ সকাল। হয়তো দিনের অন্যসব কাজের মতোই ঘর থেকে বেরিয়েছিলেন বাবা ও ছেলে।

সামনে ছিল পথ, ছিল গন্তব্য, ছিল জীবনের স্বাভাবিক ছন্দ। কিন্তু ফটিকছড়ির আমতল এলাকায় কয়েক সেকেন্ডের ভয়াবহতায় সবকিছু বদলে গেল।

যে মোটরসাইকেলে পাশাপাশি বসে পথ চলছিলেন মুহাম্মদ শাহজাহান (৪৪) ও তাঁর ছেলে মুহাম্মদ আরিফ (১৮), সেটিই হয়ে উঠল তাঁদের জীবনের শেষ যাত্রার বাহন।

সোমবার (১ জুন) সকাল ১০টার দিকে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কের পাইন্দং ইউনিয়নের আমতল এলাকায় দ্রুতগতির একটি বিআরটিসি বাস মোটরসাইকেলটিকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান বাবা-ছেলে। মুহূর্তেই আনন্দ, স্বপ্ন আর পরিবারের আশ্রয় ভেঙে পড়ে নির্মম বাস্তবতার সামনে।

কয়েক সেকেন্ডের বিভীষিকা :
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামমুখী বিআরটিসি বাসটি আমতল এলাকা অতিক্রম করার সময় নিয়ন্ত্রণহীন গতিতে মোটরসাইকেলটিকে চাপা দেয়। সংঘর্ষ এতটাই ভয়াবহ ছিল যে শাহজাহান ও তাঁর ছেলে আরিফের প্রাণ রক্ষা সম্ভব হয়নি।

একই সময়ে বাসটির সঙ্গে একটি অটোরিকশারও সংঘর্ষ হয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে যায়। মহাসড়কে সৃষ্টি হয় আতঙ্ক, চিৎকার আর বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি।

জনরোষের আগুন:
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বিস্ফোরিত হয়। নিহত বাবা-ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় বিক্ষুব্ধ জনতা বিআরটিসি বাসটি আটক করে আগুন ধরিয়ে দেয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই বাসটি আগুনে দাউদাউ করে জ্বলতে থাকে।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে ততক্ষণে বাসটির উল্লেখযোগ্য অংশ পুড়ে যায়।

থমকে যায় মহাসড়ক:
দুর্ঘটনার পর চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কে প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বিক্ষুব্ধ জনতাকে সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করে।

শোকে স্তব্ধ পাইন্দং:
নিহত মুহাম্মদ শাহজাহান ও তাঁর ছেলে মুহাম্মদ আরিফ ফটিকছড়ি উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের বাসিন্দা।

এক পরিবারের দুই সদস্যের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের কান্না আর প্রতিবেশীদের নিঃশব্দ দীর্ঘশ্বাস যেন প্রশ্ন তুলছে—আর কত প্রাণ গেলে মহাসড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে?

এ বিষয়ে ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল হোসেন জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার পর বাসটির চালককে আটক করা হয়েছে।

নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়রা বলছেন, ফটিকছড়ির আমতলের এই ঘটনা শুধু একটি সড়ক দুর্ঘটনা নয়; এটি একটি পরিবারের ভেঙে পড়ার গল্প, একটি বাবার অসমাপ্ত দায়িত্বের গল্প, একটি তরুণ জীবনের থেমে যাওয়া স্বপ্নের গল্প।

মহাসড়কের ব্যস্ততা আবার স্বাভাবিক হয়েছে, যানবাহনও চলছে আগের মতো। কিন্তু শাহজাহান ও আরিফের পরিবারের জন্য সময় যেন থেমে গেছে সেই ভয়াল সকালের কয়েকটি সেকেন্ডে।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি