চট্টগ্রাম নগরে শুক্রবার গভীর রাতে হঠাৎই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে অভিজাত খুলশী থানাধীন ফয়’স লেক ও লেকভ্যালি আবাসিক এলাকার আশপাশ।
সরকারি জমির দখল ও স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মুখোমুখি অবস্থানে চলে যায় দুটি পক্ষ। শুরু হয় ধাওয়া–পাল্টাধাওয়া, সংঘর্ষ ও উত্তেজনা।
গতকাল শুক্রবার রাত ১১টার দিকে শুরু হওয়া এ সংঘর্ষ প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলে। এতে অন্তত আটজন আহত হয়েছেন।তাঁদের মধ্যে কয়েকজন ছুরিকাঘাতে গুরুতর জখম হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, লেকভ্যালি আবাসিক এলাকায় সরকারি একটি জমিতে দেয়াল নির্মাণকে কেন্দ্র করে কয়েকদিন ধরেই উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
ওই দেয়াল ভেঙে ফেলার ঘটনাকে ঘিরে শুক্রবার রাতে দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের লোকজন সংঘবদ্ধ হয়ে মুখোমুখি অবস্থান নেয়। পরে পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সংঘর্ষ চলাকালে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ধাওয়া–পাল্টাধাওয়া ও উত্তেজনার কারণে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচলও বন্ধ হয়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপত্তার শঙ্কায় ঘরবন্দী হয়ে পড়েন।
পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠলে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ছুটে যান।
পুলিশ সূত্র জানায়, ফয়’স লেক ও আশপাশের পাহাড়ি এলাকায় সরকারি মালিকানাধীন কিছু জমি রয়েছে।
এসব জমির নিয়ন্ত্রণ ও দখলকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। শুক্রবার রাতের সংঘর্ষও সেই বিরোধেরই বহিঃপ্রকাশ।
খবর পাওয়ার পর খুলশী থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
চট্টগ্রাম নগর পুলিশের উত্তর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) আমিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, “খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।
প্রাথমিকভাবে ৮ থেকে ১০ জন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হয়েছেন।”
তিনি আরও বলেন, “কারা এ ঘটনার নেতৃত্ব দিয়েছে এবং কারা মূল ভূমিকা পালন করেছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পুলিশ জানিয়েছে, সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ, নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং সরকারি জমি দখলসংক্রান্ত বিরোধের পেছনের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশি নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি

