চট্টগ্রাম নগরের নন্দনকানন এলাকায় লোকনাথ মন্দির ও সংলগ্ন সরকারি খাসজমির নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) এবং স্থানীয় সাধারণ হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
শনিবার ভোররাতে শুরু হওয়া এ ঘটনায় অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ একজনকে আটক করেছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, শনিবার ভোররাত প্রায় ৩টার দিকে ইসকনের একদল অনুসারী নন্দনকানন এলাকার লোকনাথ মন্দিরসংলগ্ন স্থানে প্রবেশের চেষ্টা করেন।
এ সময় স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে তাঁদের কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সংঘর্ষ চলাকালে মন্দির এলাকার একটি কক্ষ ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া কিছু বৈদ্যুতিক সরঞ্জামও ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে জানা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, লোকনাথ মন্দিরসংলগ্ন সরকারি খাসজমির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ইসকন ও স্থানীয় সাধারণ হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে।
তাঁদের অভিযোগ, ইসকন ধাপে ধাপে ওই এলাকার জমি ও মন্দির নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছে।
অন্যদিকে স্থানীয় সাধারণ হিন্দুরা জায়গাটিকে তাঁদের ধর্মীয় সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করে আসছেন এবং সেখানে বাইরের কোনো সংগঠনের হস্তক্ষেপ মেনে নিতে নারাজ।
এর আগে চট্টগ্রামে ইসকনের বিরুদ্ধে জমি দখল ও যৌথ চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগ তুলেছিল ‘প্রবর্তক সংঘ চট্টগ্রাম’।
এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা অভিযোগ করেছিলেন, ইসকন পেশিশক্তি ব্যবহার করে জমি দখল, চুক্তি লঙ্ঘন এবং পাহাড় কাটার মাধ্যমে পরিবেশের ক্ষতি করছে।
খবর পেয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) একাধিক দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
নগর পুলিশের দক্ষিণ বিভাগের উপকমিশনার হোসাইন কবির ভূঁইয়া বলেন, “মূলত লোকনাথ মন্দিরের জায়গাকে কেন্দ্র করে ইসকন ও স্থানীয় সাধারণ হিন্দুদের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
ভোররাতে ইসকনের লোকজন ওই এলাকায় প্রবেশ করলে স্থানীয়রা বাধা দেয়। আমরা অতিরিক্ত পুলিশ নিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছি। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।”
সংঘর্ষে আহত চারজনকে উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আটক ব্যক্তির বিষয়ে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সিএমপি দক্ষিণ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উদ্ভূত পরিস্থিতি শান্ত রাখতে এলাকায় নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে।
বিরোধের স্থায়ী সমাধানে উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আইনগত প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি

