প্রতিকূল আবহাওয়া, লাল কার্ডের ধাক্কা আর স্বাগতিক গ্যালারির আকাশছেঁড়া চাপ। ফুটবল ম্যাচ জেতার জন্য এর চেয়ে বড় পরীক্ষা আর কী হতে পারে?
এই সব কটি কঠিন পরীক্ষাতেই লেটার মার্কস নিয়ে উত্তীর্ণ হলো ইংল্যান্ড। একজন কম নিয়ে ম্যাচের দীর্ঘ সময় খেলেও মেক্সিকোর বিপক্ষে ৩-২ ব্যবধানের এক অবিশ্বাস্য জয় তুলে নিয়েছে থ্রি-লায়ন্সরা।
জুড বেলিংহামের জাদুকরি জোড়া গোল আর অধিনায়ক হ্যারি কেইনের বরফশীতল মাথার পেনাল্টিতে ভর করে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে ইংলিশরা।
ম্যাচ শুরুর আগেই হানা দিয়েছিল বৈরী আবহাওয়া। মেঘের গর্জন আর ভারী বৃষ্টির কারণে নিরাপত্তার স্বার্থে খেলা শুরু হতে বিলম্ব হয় প্রায় এক ঘণ্টা।
তবে মাঠের বাইরে প্রকৃতির সেই উত্তাপ যেন ম্যাচ শুরু হতেই ফুটবলারদের পায়ে ভর করল। শুরু থেকেই আক্রমণ আর প্রতি-আক্রমণে মেক্সিকোর মাঠ যেন এক রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
ম্যাচের প্রথমার্ধটা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয় ইংল্যান্ড। ম্যাচের ৩৬ মিনিটে প্রথম ডেডলক ভাঙেন জুড বেলিংহাম। বুকায়ো সাকার নিখুঁত ক্রস থেকে এক দুর্দান্ত হেডে বল জালে জড়ান এই মিডফিল্ডার।
সেই গোলের রেশ কাটতে না কাটতেই, মাত্র দুই মিনিট পর (৩৮ মিনিটে) মেক্সিকোর রক্ষণভাগ চূর্ণ-বিচূর্ণ করে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন বেলিংহাম।
মুহূর্তের মধ্যেই ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে ম্যাচ মুঠোয় পুরে নেয় ইংল্যান্ড।
তবে স্বাগতিক মেক্সিকো দমে যাওয়ার পাত্র ছিল না। ৪২ মিনিটে হুলিয়ান কিনিয়োনেসের দারুণ এক গোলে ব্যবধান কমায় তারা (২-১)। বিরতির আগে সমতায় ফেরার আরও কিছু সুযোগ তৈরি করলেও ভাগ্য সে যাত্রায় সহায় হয়নি স্বাগতিকদের।
দ্বিতীয়ার্ধের ৫৫ মিনিটে ঘটে ম্যাচের সবচেয়ে বড় নাটকীয় ঘটনা। সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন ইংল্যান্ডের জ্যারেল কোয়ানসাহ।
১০ জনের দলে পরিণত হওয়া ইংল্যান্ডের ওপর তখন চেপে বসে মেক্সিকোর আক্রমণের পাহাড়। কিন্তু চাপের মুখেই যেন নিজেদের সেরাটা বের করে আনে বড় দলগুলো।
৫৫ মিনিটে ধাক্কা খাওয়ার ঠিক ৪ মিনিট পর, অর্থাৎ ৫৯ মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাকে ওঠা অ্যান্থনি গর্ডনকে বক্সের ভেতর ফাউল করে বসে মেক্সিকোর ডিফেন্স।
রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজাতে দেরি করেননি। স্পট কিক থেকে দলের পক্ষে তৃতীয় গোলটি করতে ভুল করেননি স্নায়ুর চরম পরীক্ষায় উত্তীর্ণ অধিনায়ক হ্যারি কেইন। স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৩-১।
ম্যাচ থেকে ছিটকে গিয়েও গ্যালারির গগনবিদারী চিৎকারে প্রাণ ফেরে মেক্সিকোর। ৬৮ মিনিটে ব্রায়ান গুতিয়েরেজকে বক্সের ভেতর ফাউল করা হলে ভিডিও সহকারী রেফারির (ভিএআর) সহায়তায় পেনাল্টি পায় মেক্সিকো। রাউল হিমেনেজের নিখুঁত শটে ব্যবধান দাঁড়ায় ৩-২।
ম্যাচের শেষ ২০ মিনিট ছিল শ্বাসরুদ্ধকর। বলের দখল, কর্নার কিংবা গোল অভিমুখে শট-সব পরিসংখ্যানেই ইংল্যান্ডকে কোণঠাসা করে ফেলেছিল মেক্সিকো।
কিন্তু ইংলিশ ডিফেন্সের ইস্পাতকঠিন দৃঢ়তা এবং গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ডের অতিমানবীয় কয়েকটি সেভ মেক্সিকোকে সমতায় ফিরতে দেয়নি।
শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই সমস্ত চাপ উবে গিয়ে এক মহাকাব্যিক জয়ের উল্লাসে মাতে ইংল্যান্ড শিবির।
প্রতিকূলতার পাহাড় ডিঙিয়ে আসা এই জয় কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ের মুখোমুখি হওয়ার আগে থ্রি-লায়ন্সদের আত্মবিশ্বাসকে পৌঁছে দিল অনন্য এক উচ্চতায়।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি

