স্বপ্নের টোপ ফেলে জিম্মি করার ভয়ঙ্কর চক্রান্ত! শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে উদ্ধার ১৭ জন

বন্দিশালা ভেঙে ভাগ্যবিক্ষুব্ধ তরুণদের জীবন ফেরাল এসআরবি

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৩:৫১

ভালো উপার্জনের রঙিন স্বপ্ন, জীবনের রূপান্তর আর পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর তীব্র আকুতি-এই সরল বিশ্বাসকেই ঘাতক ফাঁদে পরিণত করেছিল এক সংঘবদ্ধ জঘন্য মানবপাচার চক্র।

লক্ষ্য একটাই, নীল দরিয়ার উত্তাল তরঙ্গ পেরিয়ে অবৈধ উপায়ে মালয়েশিয়া পৌঁছে দেওয়া। তবে সমুদ্রের ট্র্যাজেডি কিংবা জবরদস্তিমূলক শ্রমের দাসত্বে বন্দি হওয়ার আগেই সেই ভয়ঙ্কর ছক গুঁড়িয়ে দিল স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১৫ (সিপিসি-১, টেকনাফ ক্যাম্প)।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলের আলো যখন ঢলে পড়ছিল, তখনই টেকনাফ থানাধীন দক্ষিণ লম্বরী এলাকার মো. ইব্রাহীমের বসতবাড়িতে হানা দেয় ব্যাটালিয়নের চৌকস আভিযানিক দল।

গোপন সংবাদ আর আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সুনির্দিষ্ট সংযোগ ধরে চালানো এই শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে পণ্ড হয়ে যায় পাচারকারীদের সব পরিকল্পনা।

ব্যাটালিয়নের উপস্থিতি টের পেয়ে চতুর পাচারকারীরা চতুরতার সাথে পালিয়ে গেলেও ঘটনাস্থলে আটকে পড়া ১৭ জন অসহায় পুরুষকে সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হন অভিযানকারীরা।

উদ্ধার হওয়া ভাগ্যবিক্ষুব্ধ মানুষগুলো সীমান্তঘেঁষা পাহাড়ি জেলা বান্দরবান এবং উপকূলীয় জেলা কক্সবাজারের বিভিন্ন প্রান্তের সন্তান।

বান্দরবানের লামা থানার মো. জাফর আলম, মো. নুরুল হুদা, মো. শাহিন শাহরিয়ার হৃদয়, মো. বেলাল, মো. রফিকুল ইসলাম, মো. সাফায়েত হোসেন ও মো. জাফর আলম-যাদের জীবনের আলো নিভে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল ওই বিষাক্ত বন্দিশালায়।

একই সঙ্গে কক্সবাজারের চকরিয়া, পেকুয়া, রামু, সদর ও টেকনাফ থানা এলাকার মো. মামুনুর রশিদ, মো. তাফসির, মো. আশরাফ হোসেন, মো. বাবুল, মো. আনসার উদ্দিন, মো. নুরুল আফসার, মো. সাইফুল ইসলাম (১), মো. সাইফুল ইসলাম (২), মো. জোবায়ের এবং মো. নুর মোস্তফাকেও ওই বন্দিশালা থেকে উদ্ধার করা হয়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রাথমিক অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে চরম এক নির্মম সত্য।

চক্রটি কেবল অর্থ উপার্জনের লালসায় নিরীহ এই মানুষগুলোকে ফাঁদে ফেলেনি, বরং তাদের পেছনে কাজ করছিল জবরদস্তিমূলক শ্রম আদায় এবং সমুদ্রপথে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাচারের এক নির্মম নীলক নকশা।

ঘটনার পর কক্সবাজারের স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১৫ এর মিডিয়া কর্মকর্তা সহকারী পুলিশ সুপার আ. ম. ফারুক নিশ্চিত করেছেন, পলাতক ও অজ্ঞাতনামা পাচারকারীদের সনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান সর্বোচ্চ জোরদার করা হয়েছে।

উদ্ধার হওয়া ১৭ জন ভুক্তভোগীকে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্যে টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সময়োপযোগী এই পদক্ষেপে যেমন বাঁকা পথে সমুদ্র পাড়ি দেওয়ার এক সম্ভাব্য ট্র্যাজেডি থামল, তেমনই বুক ফিরে পেল ১৭টি পরিবার।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি