চট্টগ্রামে ২০০০+ জটিল হৃদরোগীর জীবন বাঁচিয়ে নতুন ইতিহাস গড়ল এভারকেয়ার

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:০৮

বন্দরনগরীর বুকে বিশ্বমানের স্বাস্থ্যসেবার অনন্য এক মাইলফলক স্পর্শ করেছে এভারকেয়ার হসপিটাল চট্টগ্রাম।

অত্যন্ত জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থাতেও সফলভাবে ২০০০-এরও বেশি হৃদরোগীর এনজিওপ্লাস্টি/স্টেন্টিং (পিটিসিএ) সম্পন্ন করে নতুন আশার সঞ্চার করেছে এই হাসপাতালটি।

চট্টগ্রাম ও এর আশপাশের অঞ্চলের মানুষের কাছে বিশ্বমানের কার্ডিয়াক সেবা পৌঁছে দেওয়ার যে অঙ্গীকার, এই অর্জন তারই এক মূর্ত প্রতীক।

এই ঐতিহাসিক অর্জন ও বিশ্ব হার্ট দিবস ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে আজ হাসপাতালে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল এক জাঁকজমকপূর্ণ প্রেস ইভেন্ট ও সচেতনতামূলক র‍্যালি।

‘ডোন্ট মিস অ্যা বিট’ (Don’t Miss a Beat) প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে চিকিৎসকরা হৃদরোগের প্রাথমিক শনাক্তকরণ, জীবনযাত্রার ইতিবাচক পরিবর্তন এবং সময়মতো সঠিক চিকিৎসা নেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে এভারকেয়ার হসপিটালস, বাংলাদেশ-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও ডা. রত্নদ্বীপ চাস্কার বলেন, দুই হাজারেরও বেশি রোগীকে নতুন জীবন ফিরিয়ে দিতে পেরে আমরা অত্যন্ত গর্বিত।

রোগীদের অকৃত্রিম আস্থা এবং আমাদের পুরো টিমের নিরলস প্রচেষ্টাই এই অসামান্য অর্জনের মূল শক্তি। ভবিষ্যতেও এই অঞ্চলে চিকিৎসাসেবার মান আরও উন্নত করতে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ।

কার্ডিওলজি বিভাগের সিনিয়র কনসাল্টেন্ট ও কো-অর্ডিনেটর প্রফেসর ডা. শেখ মোহাম্মদ হাছান মামুন বলেন, ২ হাজারেরও বেশি রোগীকে সফল সেবা দেওয়া আমাদের জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি। এই দীর্ঘ পথচলায় ডাক্তার, নার্স ও স্টাফদের দিনরাত পরিশ্রম এবং রোগীদের আস্থাই আমাদের মূল অনুপ্রেরণা। এই সাফল্য ধরে রেখে আমরা সামনে আরও এগিয়ে যেতে চাই।

হৃদরোগের ধরন ও জটিলতা নিয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন কার্ডিওলজি বিভাগের চিকিৎসকরা। ডা. জহির উদ্দিন মাহমুদ ইলিয়াছ (সিনিয়র কনসাল্টেন্ট) বলেন, বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট বা অনিয়মিত স্পন্দনের মতো লক্ষণগুলোকে কখনোই অবহেলা করা যাবে না।

নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার মাধ্যমে প্রাথমিক অবস্থাতেই রোগ শনাক্ত করতে পারলে জীবন বাঁচানো অনেক সহজ হয়। ধূমপান ত্যাগ, সুষম খাদ্য, নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম ও স্ট্রেস কম রাখার মাধ্যমে হার্ট সুস্থ রাখা সম্ভব।

ডা. মো. তারিক বিন আব্দুর রশিদ (সিনিয়র কনসাল্টেন্ট) বলেন, হৃদরোগ এখন আর শুধু বয়স্কদের ব্যাধি নয়, যেকোনো বয়সেই এটি হানা দিতে পারে-যা সত্যিই উদ্বেগের। লক্ষণ প্রকাশ না পাওয়া বা অবহেলা করার মানসিকতাই বিপদের কারণ হয়। তাই যারা কার্ডিয়াক সমস্যায় ভুগছেন, তাদের নিয়মিত ফলো-আপ ও ওষুধ চালিয়ে যাওয়া অত্যন্ত জরুরি।

ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির (ডিরেক্টর, মেডিকেল সার্ভিসেস, এভারকেয়ার হসপিটালস বাংলাদেশ) বলেন, এভারকেয়ারের প্রধান লক্ষ্যই হলো মানসম্মত ও নির্ভরযোগ্য চিকিৎসা নিশ্চিত করা। আমরা চাই প্রতিটি মানুষ যেন নিজের হার্টের সুরক্ষায় সচেতন থাকে এবং সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়।

ডা. সমীর কুমার পাল (অ্যাটেন্ডিং কনসাল্টেন্ট) বলেন, অনেকেই সাময়িক সুস্থ বোধ করলেই ওষুধ খাওয়া বন্ধ করে দেন, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক। মনে রাখতে হবে, হৃদরোগের চিকিৎসা কোনো একদিনের বিষয় নয়, এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া।

ডা. রাকিব চৌধুরী (অ্যাটেন্ডিং কনসাল্টেন্ট) বলেন, হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্রে প্রতিটি সেকেন্ড ও মিনিট অত্যন্ত মূল্যবান। বুকে তীব্র ব্যথা বা চাপ অনুভূত হলে বিশ্রাম নেওয়ার নামে সময় নষ্ট না করে রোগীকে তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে নিয়ে আসাই বুদ্ধিমানের কাজ।

অনুষ্ঠানে ৬,০০০-এরও বেশি সফল ক্যাথ প্রসিডিউরসহ হাসপাতালের উন্নত প্রযুক্তিগত সক্ষমতার চিত্র তুলে ধরা হয়।

সমাবেশ শেষে এভারকেয়ার হসপিটাল চট্টগ্রামের চিফ অপারেটিং অফিসার বিনয় কউল-সহ হাসপাতালের প্রবীণ ও নবীন চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীদের অংশগ্রহণে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের হয়।

র‍্যালিটি হাসপাতাল প্রাঙ্গণ প্রদক্ষিণ করে হৃদরোগ বিষয়ে সর্বসাধারণের সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়ে দিনব্যাপী কর্মসূচির সমাপ্তি টানে।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি