হৃদরোগ প্রতিরোধে দরকার সামাজিক আন্দোলন: বিশ্ব হার্ট দিবসে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের বার্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:৩৪

ধূমপান, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন আর কায়িক পরিশ্রমের অভাব-দৈনন্দিন জীবনের এই অনিয়মগুলোই নিঃশব্দে বাড়িয়ে দিচ্ছে হৃদরোগের মারাত্মক ঝুঁকি।

অথচ বিশ্বজুড়ে প্রতি তিনটি মৃত্যুর অন্তত একটির জন্য দায়ী এই হার্ট অ্যাটাক। বাংলাদেশেও এটি এখন আর বিরল কিছু নয়, বরং এক অতি পরিচিত বাস্তবতায় রূপ নিয়েছে।

এমন প্রেক্ষাপটে ‘একটি হৃদস্পন্দনও উপেক্ষা নয়, আপাত সুস্থতার আড়ালেও হৃদরোগ লুকিয়ে থাকতে পারে’-এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পালিত হলো বিশ্ব হার্ট দিবস।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের উদ্যোগে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালি, ফিতা ও কেক কাটা এবং আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য ও জেনারেল হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মো. আবু সুফিয়ান বলেন, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাত্রা আমাদের হৃদপিণ্ডকে অকালেই থামিয়ে দিচ্ছে।

হৃদরোগ থেকে বাঁচতে হলে কেবল চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলেই চলবে না, খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন এনে প্রতিদিন নিয়ম করে ব্যায়াম ও শারীরিক পরিশ্রম করতে হবে। শুধু নিজে সচেতন হলেই হবে না, ছড়িয়ে দিতে হবে অন্যের মাঝেও।

হাসপাতালের গোলচত্বর থেকে শুরু হওয়া বর্ণাঢ্য র‌্যালিটি নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে নেতৃত্ব দেন সংসদ সদস্য মোঃ আবু সুফিয়ান।

র‌্যালি শেষে দিবসটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হিসেবে কেক কাটা হয়। পাশাপাশি হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিনামূল্যে আয়োজন করা হয় বিশেষ হেলথ স্ক্রিনিংয়ের।

চট্টগ্রাম ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক (ভারপ্রাপ্ত) ও কার্ডিওলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোঃ একরাম হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. সেখ ফজলে রাব্বি এবং জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ডা. সেখ ফজলে রাব্বি তুলে ধরেন বিশ্বজুড়ে অসসংক্রামক ব্যাধি হিসেবে হৃদরোগের ভয়াবহ চিত্র। অন্যদিকে, সেমিনারে উপস্থিত অন্যান্য চিকিৎসকরা একটি অনন্য কথা স্মরণ করিয়ে দেন-হৃৎপিন্ড থাকলেই কেবল হৃদয়বান হওয়া যায় না, সেটির যত্নও নিতে হয়।

বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, নিজেদের কেবল ডাক্তার না ভেবে গুরুত্বপূর্ণ রোগী মনে করেই রোগীদের আন্তরিকভাবে সেবা দিতে হবে।

প্রতিদিন অন্তত ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুম, নিয়মিত হাঁটাচলা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রুটিন চেকআপই পারে আমাদের হৃদযন্ত্রকে সচল রাখতে। এই ঘাতক ব্যাধি থেকে সমাজকে বাঁচাতে এখন সর্বস্তরে সচেতনতার আন্দোলন গড়ে তোলা জরুরি।

সভাপতির বক্তব্যে হৃদরোগের মূল কারণগুলো চিহ্নিত করে ডা. মোঃ একরাম হোসেন বলেন, আমরা শরীরের সব অঙ্গের চিন্তা করলেও হার্টকে অবহেলা করি। অথচ পারিবারিক ইতিহাস, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা, অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ, ধূমপান, মদ্যপান ও অতিরিক্ত মানসিক উৎকণ্ঠাই অকালমৃত্যুর মূল অনুঘটক। অন্যান্য অঙ্গের মতো হৃদপিণ্ডের যত্নেও আমাদের আজই প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে কার্ডিওলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোঃ রাশেদুল হাসান, সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. কিশোয়ার নাসরিন, সহকারী অধ্যাপক ডা. মোঃ ইমতিয়াজ উদ্দীন, সহকারী অধ্যাপক ডা. মোঃ বোরহান উদ্দীন এবং আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মোঃ আশিক আমানসহ হাসপাতালের বিভিন্ন স্তরের চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি