বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ৭ নভেম্বর এক তাৎপর্যপূর্ণ ও আলোচিত দিন। ১৯৭৫ সালের এই দিনে সংঘটিত সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থান দেশের রাজনৈতিক গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন নিয়ে আসে।
স্বাধীনতা-পরবর্তী রাজনৈতিক অস্থিরতা, সামরিক ক্ষমতার পালাবদল এবং জাতীয় নেতৃত্বের পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে দিনটি আজও নানা রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক মূল্যায়নের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
দীর্ঘ ৫১ বছর পরও বাংলাদেশের রাজনীতিতে ৭ নভেম্বরের গুরুত্ব কমেনি। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দিনটিকে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে পালন করে।
দলটির কাছে ৭ নভেম্বর জাতীয় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র ও জনগণের ঐক্যের প্রতীক।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশজুড়ে তৈরি হয় চরম অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা।
এরই ধারাবাহিকতায় ৩ নভেম্বর সংঘটিত সামরিক অভ্যুত্থানে তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে ঢাকা সেনানিবাসে গৃহবন্দি করা হয়।
এর চার দিন পর, ৭ নভেম্বর সাধারণ সেনাসদস্য ও জনতার অংশগ্রহণে সংঘটিত হয় পাল্টা অভ্যুত্থান।
ওই ঘটনাপ্রবাহের মধ্য দিয়ে বন্দিদশা থেকে মুক্ত হন জিয়াউর রহমান। পরবর্তী সময়ে দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে ফিরে আসেন।
বিএনপির রাজনৈতিক মূল্যায়নে, ৭ নভেম্বর ছিল আধিপত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার আকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশ।
দলটির মতে, সেদিনের সিপাহি-জনতার ঐক্য জাতীয়তাবাদী চেতনা ও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকে নতুন করে উজ্জীবিত করেছিল।
পরবর্তী সময়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, বহুদলীয় রাজনীতি ও অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার যে ধারা বিকশিত হয়, বিএনপি ৭ নভেম্বরকে তার ঐতিহাসিক ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করে।
দলটির নেতাকর্মীদের কাছে দিনটি শুধু অতীত স্মরণের উপলক্ষ নয়; গণতান্ত্রিক অধিকার, জাতীয় ঐক্য ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করারও দিন।
সাত দিনব্যাপী কর্মসূচি
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ৫ থেকে ১১ নভেম্বর পর্যন্ত সাত দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। এর অংশ হিসেবে আজ ৭ নভেম্বর সকাল ৬টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ দেশের সব দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে।
সকাল ৮টায় বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও দলীয় নেতাকর্মীরা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করবেন।
দিবসটি উপলক্ষে আজ বিকেল ৩টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হবে।
ঢাকা মহানগরীর পাশাপাশি দেশের প্রতিটি জেলা ও মহানগর পর্যায়েও একই ধরনের শোভাযাত্রা আয়োজনের কথা রয়েছে।
আগামীকাল ৮ নভেম্বর থানা ও উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে দলটি।
এ ছাড়া বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন নিজ নিজ উদ্যোগে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা কর্মসূচি পালন করছে।
পাঁচ দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও বিতর্কিত অধ্যায় হিসেবে আলোচিত।
বিএনপির কাছে দিনটি জাতীয় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ঐক্যের প্রতীক।
দলটির এবারের সাত দিনব্যাপী আয়োজনের মধ্য দিয়ে সেই রাজনৈতিক আদর্শ ও ঐতিহাসিক স্মৃতিকে নতুন করে সামনে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি


