চন্দনাইশে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের যৌ’ন হয়রানির অভিযোগ!

নির্জনে ডেকে ছাত্রীদের হয়রানি,ভয়-লজ্জায় নীরব ছিল ছাত্রীরা

আয়ুব মিয়াজী, চন্দনাইশ প্রতিনিধি : প্রকাশিত: ০৭ নভেম্বর, ২০২৬ ১২:৪৮

চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার উত্তর জোয়ারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল মান্নান আজাদের বিরুদ্ধে পঞ্চম শ্রেণির একাধিক ছাত্রীকে যৌন হয়রানি ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় চার শিক্ষার্থীর অভিভাবক উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে উপজেলা প্রশাসন। তবে এখনো চূড়ান্ত হয়নি তদন্ত প্রতিবেদন।

অভিযোগকারী অভিভাবকেরা বলছেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে যথাযথ প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।

তদন্ত চলাকালে অভিযুক্ত শিক্ষক যেন কোনোভাবে তদন্ত কার্যক্রম প্রভাবিত করতে না পারেন, সে ব্যবস্থাও চান তাঁরা।

অভিভাবকদের লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, বিদ্যালয়ের বিভিন্ন অজুহাতে প্রধান শিক্ষক আবদুল মান্নান আজাদ অভিভাবকদের অনুপস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের নিজের কক্ষে এবং বিদ্যালয়ের নির্জন স্থানে ডেকে নিতেন।

সেখানে পঞ্চম শ্রেণির একাধিক ছাত্রীকে যৌন হয়রানি ও শ্লীলতাহানি করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁদের।

ভয়ে ও লজ্জায় শিক্ষার্থীরা প্রথমে পরিবারের কাছে বিষয়টি প্রকাশ করেনি। পরে একাধিক ছাত্রী মায়ের কাছে ঘটনা খুলে বললে বিষয়টি জানাজানি হয়।

এরপর চার শিক্ষার্থীর অভিভাবক একত্র হয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।

অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

কমিটির প্রধান উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রাসেল চৌধুরী। অন্য দুই সদস্য হলেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা চৈতী বড়ুয়া এবং উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের ইনস্ট্রাক্টর আক্তার সানজিদা জাফর পপি।

গত ২ নভেম্বর তদন্ত কমিটির সদস্যরা উত্তর জোয়ারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

এ সময় অভিযোগকারী অভিভাবক, সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী এবং বিদ্যালয়ের অন্যান্য ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেন তাঁরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তদন্তের অংশ হিসেবে বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য ও প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক আবদুল মান্নান আজাদ বলেন, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির একটি পক্ষ এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছে।

তদন্ত কমিটি কয়েক দফা বিদ্যালয়ে এসে তদন্ত কার্যক্রম শেষ করেছে। তিনি এখনো নিয়মিত বিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। তদন্ত প্রতিবেদন জমা না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে বিস্তারিত বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি।

তদন্ত কমিটির সদস্য উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা চৈতী বড়ুয়া বলেন, বিষয়টি জটিল হওয়ায় তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে। প্রতিবেদন চূড়ান্ত হয়নি।

পাঁচ কর্মদিবস আগে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। চলতি সপ্তাহে প্রতিবেদন জমা দিতে পারবেন বলে তাঁরা আশা করছেন।

কমিটির আরেক সদস্য উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের ইনস্ট্রাক্টর আক্তার সানজিদা জাফর পপি বলেন, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। অভিযোগকারীদের শনাক্ত করে তাঁদের বক্তব্যও নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুর রহমান, ভারপ্রাপ্ত উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুহাম্মদ ইলিয়াছ এবং সমাজসেবা কর্মকর্তা রাসেল চৌধুরীর সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের পাওয়া যায়নি।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি