চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলা পরিষদের নতুন ভবনে চুরির ঘটনায় সরকারি দপ্তরগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এক রাতে ভবনের চার তলার বিভিন্ন দপ্তর থেকে খোয়া গেছে আটটি কম্পিউটার। শুধু কম্পিউটার চুরি করেই ক্ষান্ত হয়নি চোরেরা, পরিত্যক্ত পুরোনো আদালত ভবনে নিয়ে সেগুলোর কেসিং খুলে হার্ডডিস্কসহ গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশও নিয়ে গেছে তারা।
পরিষদের নতুন ভবনে এমন চুরির ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করেছে।
গত ৫ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) দিবাগত রাতে সংঘটিত এ ঘটনায় ভবনের প্রথম থেকে চতুর্থ তলা পর্যন্ত বিভিন্ন দপ্তর থেকে মোট আটটি কম্পিউটার চুরি হয়।
চুরির শিকার দপ্তরগুলোর মধ্যে রয়েছে ডিজিটাল ল্যাব, সমবায়, কৃষি এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)।
জানা গেছে, চোরেরা ভবনের বিভিন্ন কক্ষ থেকে কম্পিউটারগুলো সরিয়ে নিয়ে যায় পরিত্যক্ত পুরোনো আদালত ভবনে।
সেখানে কম্পিউটারের কেসিং খুলে হার্ডডিস্কসহ অন্যান্য যন্ত্রাংশ খুলে নিয়ে যায় তারা। পরে ফেলে রেখে যায় কম্পিউটারের অবশিষ্টাংশ।
ঘটনাটি শুধু কয়েকটি সরকারি কম্পিউটার চুরির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় বরং উপজেলা পরিষদের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক স্থাপনার নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েও নতুন করে ভাবনার অবকাশ তৈরি করেছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবদুর রহমান জানান, বিভিন্ন অপরাধের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযানে ক্ষুব্ধ হয়ে অপরাধীরা প্রশাসনকে চাপে ফেলতে এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে চুরির প্রকৃত কারণ ও এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, যে উপজেলা পরিষদ ভবনে বসে উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে পরিকল্পনা ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়, সেই ভবনেই যদি চোরেরা নির্বিঘ্নে একাধিক দপ্তরে প্রবেশ করে কম্পিউটার চুরি করে নিয়ে যেতে পারে, তাহলে সরকারি স্থাপনার নিরাপত্তাব্যবস্থা কতটা কার্যকর-সে প্রশ্ন উঠতেই পারে।
স্থানীয়দের মধ্যে ইতোমধ্যে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি তৈরি হয়েছে। তাঁদের মতে, প্রশাসনিক ভবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে সাধারণ মানুষের জানমাল ও সম্পদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়বে।
চন্দনাইশে চুরির ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ার পেছনে আসলে কোন বিষয়টি বেশি দায়ী-সরকারের প্রতি অনাস্থা, প্রশাসনের প্রতি মানুষের আস্থার সংকট, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতার ঘাটতি, নাকি পেশাদার চোরের সংখ্যা ও অপরাধপ্রবণতা বৃদ্ধি?
এসব প্রশ্নের যথাযথ অনুসন্ধান ও বাস্তব চিত্র উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
তাঁদের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের পাশাপাশি উপজেলা পরিষদের নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। একই সঙ্গে চুরির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
এদিকে চন্দনাইশ থানার ডিউটি অফিসার রাশেদা জানান, এ ঘটনায় থানায় এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের অভিযোগ লিপিবদ্ধ হয়নি।
ফলে উপজেলা পরিষদের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় সংঘটিত এই চুরির ঘটনায় তদন্ত ও আইনগত পদক্ষেপের বিষয়টিও সামনে এসেছে।
সরকারি দপ্তরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধীদের শনাক্ত করতে প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি


