টেকনাফে মাদক চালানের অভ্যন্তরীণ বিরোধে দুইজনকে পিটিয়ে হত্যা, দুই মুমূর্ষু

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ০৪ নভেম্বর, ২০২৬ ১৫:১৫

কক্সবাজারের টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের পাহাড়ি এলাকায় মাদকসংক্রান্ত অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের জেরে চারজনকে আটকে রেখে নৃশংস নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে।

এতে প্রাণ হারিয়েছেন মোক্তার আহমদ (৪০) ও আলী আকবর নামের দুই ব্যক্তি। আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে আরও দুজনকে।

পুলিশ মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

আজ বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে হ্নীলা ইউনিয়নের পশ্চিম পানখালী এবং দুপুরে উলুচামরী ও লেচুয়াপ্রাং এলাকার মধ্যবর্তী পাহাড় থেকে পৃথকভাবে এই দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, বুধবার সকাল সাতটার দিকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে গুরুতর আহত অবস্থায় তিনজনকে পশ্চিম পানখালী ভিলেজার পাড়া টিলার পাশে ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। স্থানীয় এক কৃষক বিষয়টি দেখতে পেয়ে এগিয়ে গেলে কিছুক্ষণের মধ্যেই আহত মোক্তার আহমদ মারা যান।

মোক্তার আহমদ হোয়াইক্যং ইউনিয়নের দৈংগ্যাকাটা এলাকার মৃত আব্দুস সালামের ছেলে।

খবর পেয়ে পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা মোক্তারের মরদেহ উদ্ধারের পাশাপাশি গুরুতর আহত মোহাম্মদ ইলিয়াছ (৩৫) ও আলী আহমদকে (২৬) উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।

আহত ইলিয়াছ হোয়াইক্যংয়ের তুলাতলী এলাকার আবুল হোসেনের এবং আলী আহমদ একই এলাকার আমির হোসেনের ছেলে।

পরবর্তীতে দুপুর একটার দিকে উলুচামরী ও লেচুয়াপ্রাং এলাকার মধ্যবর্তী পাহাড়ের একটি পেয়ারা বাগানে আরেকটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয় স্থানীয়রা।

পুলিশ গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া এই মরদেহটি নির্যাতন থেকে নিখোঁজ থাকা চতুর্থ ব্যক্তি আলী আকবরের।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে চিকিৎসাধীন ইলিয়াছ অভিযোগ করেন, মাদকের একটি চালান চেকপোস্ট পার করে হোয়াইক্যংয়ের দৈংগ্যাকাটা পাহাড়ে অন্য একটি দলের কাছে পৌঁছানোর কথা ছিল।

কিন্তু পথিমধ্যে একটি ডাকাত দল চালানটি ছিনিয়ে নেয়। পরে খোয়া যাওয়া চালানের মধ্যে ৭০ হাজার টাকা উদ্ধার করা সম্ভব হলেও বাকি ৩০ হাজার টাকা আত্মসাতের সন্দেহ তৈরি হয়।

এই অর্থ চুরির অভিযোগে হোয়াইক্যংয়ের তুলাতলী এলাকার মিজান নামের এক ব্যক্তি গত সোমবার (২ নভেম্বর) রাতে চারজনকে ‘বিচারের কথা বলে’ হ্নীলার একটি গোষ্ঠীর হাতে তুলে দেন।

এরপরই পাহাড়ে নিয়ে তাদের ওপর পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়, যার জেরে মোক্তার ও আলী আকবরের মৃত্যু ঘটে।

তবে মূল চালানের পেছনে হ্নীলা এলাকার প্রভাবশালী একজনের নাম থাকলেও নিরাপত্তার স্বার্থে ইলিয়াছ তা প্রকাশ করেননি।

বিষয়টি নিশ্চিত করে টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, পৃথক দুটি স্থান থেকে দুজনের মরদেহ এবং দুজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।

ওসি আরও বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, মাদক ব্যবসা সংক্রান্ত অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও হিসাবের গড়মিলের কারণেই এই চরম নির্মমতার ঘটনা ঘটেছে।

তবে পূর্ববিরোধসহ সবকটি দিক সামনে রেখে তদন্ত চালানো হচ্ছে। এই ঘটনার নেপথ্য কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি