আবুধাবিতে ফিরিয়ে নেওয়ার পথে কাস্টমসের জালে ৬ স্বর্ণের ডিম

চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে যাত্রী আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ০২ নভেম্বর, ২০২৬ ১৮:৪২

দেশের বাজারে আশানুরূপ দাম না পাওয়ায় আবুধাবি থেকে পূর্বে নিয়ে আসা প্রায় পাঁচ কোটি টাকা মূল্যের স্বর্ণের ডিমগুলো আবারও সেই দেশেই ফিরিয়ে নেওয়ার পাঁয়তারা চলছিল। তবে শেষরক্ষা হয়নি।

কাস্টমস গোয়েন্দাদের পৃথক ও সাঁড়াশি অভিযানে ২ কেজি ৭২৮ গ্রাম ওজনের ছয়টি স্বর্ণের ডিম আটক করা হয়েছে।

গত রোববার (নির্দিষ্ট দিন) ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে আবুধাবিগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-১২৭ ফ্লাইটে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানে বিমানের ভেতর থেকে তিনটি এবং বিমানবন্দরের বোর্ডিং ব্রিজ এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় আরও তিনটি স্বর্ণের ডিম উদ্ধার করা হয়।

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে।

সিআইআইডির ভাষ্যমতে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে আবুধাবিগামী ফ্লাইটের যাত্রী মোহাম্মদ মিনহাজকে সন্দেহভাজন হিসেবে বিমানটি ছেড়ে যাওয়ার প্রাক্কালে (সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে নির্ধারিত ফ্লাইট) বিমান থেকে অফলোড করা হয়।

পরে ওই যাত্রীর শরীর তল্লাশি করে ১ কেজি ৩৬৪ গ্রাম ওজনের তিনটি স্বর্ণের ডিম উদ্ধার করা হয়।

অন্যদিকে, একই দিন বিমানবন্দরের বোর্ডিং ব্রিজ এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় সমওজনের আরও তিনটি স্বর্ণের ডিম উদ্ধার করে কাস্টমস গোয়েন্দারা।

দুটি পৃথক অভিযানে মোট ছয়টি ডিম জব্দ করা হয়, যার মোট ওজন ২ কেজি ৭২৮ গ্রাম। উদ্ধার করা এই স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য ৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। কাস্টমস সূত্র জানিয়েছে, জব্দকৃত স্বর্ণের ডিমগুলো এর আগে আবুধাবি থেকে অবৈধ পথেই বাংলাদেশে আনা হয়েছিল। কিন্তু দেশের বাজারে প্রত্যাশিত দাম না মেলায় চোরাকারবারিরা সেগুলোকে পুনরায় আবুধাবিতে ফিরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল।

এই চক্রের সঙ্গে ঠিক কারা জড়িত, কীভাবে এর আগে স্বর্ণগুলো দেশের ভেতরে প্রবেশ করানো হয়েছিল এবং পুনরায় বিদেশে পাচারের এই পরিকল্পনায় আর কারা নেপথ্যে কাজ করছে-তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখছে কাস্টমস গোয়েন্দারা।

এ ছাড়া আটক করা স্বর্ণের প্রকৃত উৎস, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সুনির্দিষ্ট ভূমিকা, সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক চোরাচালান চক্র এবং তাদের যোগাযোগ মাধ্যমগুলোও অনুসন্ধানের আওতায় আনা হয়েছে।

এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে সিআইআইডি।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি