চন্দনাইশ ভূমি অফিসে কি হচ্ছে এসব? রাতের আঁধারে নথিপত্র ট্রাকে তুলে ফেলা হয় নদীতে!

প্রতিবাদ করায় এসি ল্যান্ডের রোষানলে পড়ে চাকরি হারালেন নৈশপ্রহরী

চন্দনাইশ প্রতিনিধি : প্রকাশিত: ০২ নভেম্বর, ২০২৬ ১৮:০৭

চন্দনাইশ উপজেলা ভূমি অফিসে রাতের আঁধারে পুরোনো ও পরিত্যক্ত নথিপত্র ট্রাকে করে শঙ্খ (সাঙ্গু) নদীতে ফেলে দেওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে।

এ কার্যক্রমে বাধা দেওয়ায় এবং নথিপত্রের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় বরুন চাকমা নামের এক অস্থায়ী নৈশপ্রহরীকে মৌখিকভাবে অফিসে আসতে নিষেধ করার অভিযোগ উঠেছে সহকারী কমিশনারের (ভূমি) বিরুদ্ধে।

গত ১৮ আগস্ট কোনো ধরনের নিয়মনীতি বা আনুষ্ঠানিক নোটিশ ছাড়াই তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।

২০১৫ সাল থেকে অস্থায়ীভাবে কর্মরত ১৭ জন নৈশপ্রহরীর একজন বরুন চাকমা। চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে ২০২১ সাল থেকে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন বিচারাধীন থাকায় ২০২০ সাল থেকে তাদের সরকারি বেতন-ভাতা বন্ধ রয়েছে।

এরপর থেকে ভূমি অফিসের এলআর (লিজ রেজিস্টার্ড) ফান্ডের সামান্য বেতনের ওপর ভরসা করে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন তারা।

গত ৬ আগস্ট রাত ১১টার দিকে দোহাজারী পৌরসভার একটি ট্রাকে করে চারজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী ভূমি অফিসের পুরোনো কাগজপত্র সরিয়ে নিতে গেলে বরুন তাতে বাধা দেন।

নথিপত্র অপসারণের কোনো সরকারি অনুমোদন বা তালিকা আছে কি না-তা জানতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঝন্টু বিকাশ চাকমার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন তিনি।

এ নিয়ে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়।

বরুনের দাবি, ঘটনার পর সিসিটিভি ফুটেজ ডিলিট করে দেওয়া হয় এবং উপজেলা প্রশাসনের ভেতরে প্রায় ২০০ গজের মধ্যে বরাদ্দকৃত সরকারি কোয়ার্টারে নানা অজুহাতে অভিযান চালিয়েও তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ দাঁড় করাতে পারেননি।

পরবর্তীতে কোনো দোষ না পেলেও ওইদিনের ঘটনার জের ধরে তাকে অফিসে আসতে নিষেধ করা হয় বলে দাবি করেন বরুন।

বরুন আরও অভিযোগ করেন, তার স্থলে স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতার ভাই রবিউল ইসলামকে অস্থায়ীভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঝন্টু বিকাশ চাকমা জানান, বরুনকে মোবাইল ফোনে পাওয়া যায় না-এমন যুক্তিতেই বরুনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

তিনি চুক্তিভিত্তিক অস্থায়ী কর্মী হওয়ায় অব্যাহতির পূর্বে কোনো শোকজ নোটিশ বা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়নি। তবে বরুনের অব্যাহতির কারণে অন্য অস্থায়ী কর্মচারীদের হাইকোর্টে দায়ের করা রিটে কোনো প্রভাব পড়বে না। আদালতের রায় তাদের পক্ষে এলে সবাই চাকরিতে ফিরতে পারবেন।

তবে ছাদের পরিত্যক্ত ও পুরোনো কাগজপত্র পরিষ্কারের অংশ হিসেবেই ডাম্পিং স্টেশনে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে, দোহাজারী পৌরসভার ট্রাকচালক নুরু স্বীকার করেছেন যে, কাগজ ও ময়লা ডাম্পিং স্টেশনে ফেলার নির্দেশ থাকলেও বস্তাগুলো ভারী হওয়ায় তা মাগরিবের পর সাঙ্গু নদীতেই ফেলে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে আকস্মিক চাকরি হারানোর ফলে এলআর ফান্ডের সামান্য বেতনটুকুও বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবার নিয়ে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন বরুন চাকমা।

বরুন চাকমা জানান, অফিসে যেতে না পারায় এলআর ফান্ড থেকে পাওয়া সামান্য বেতনও বন্ধ হয়ে গেছে। এতে পরিবার নিয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন তিনি। পুনরায় কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনের সুযোগ চেয়ে জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি