চট্টগ্রাম নগরের খুলশী থানায় পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি গাড়ি ভাঙচুর এবং আসামিদের ছিনিয়ে নেওয়ার চাঞ্চল্যকর মামলায় তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ওয়াকিল হোসেন ওরফে বগা বা ‘বিহারী বগা’সহ চারজনের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
সোমবার (২ নভেম্বর) চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মহিদুল ইসলামের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
আদালত ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে ১২ আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিন করে রিমান্ডের আবেদন জানিয়েছিল পুলিশ।
দীর্ঘ শুনানি শেষে বিচারক চার আসামির প্রত্যেকের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন এবং বাকি আট আসামির রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করেন।
রিমান্ড মঞ্জুর হওয়া চার আসামি হলেন-ওয়াকিল হোসেন ওরফে বগা (বিহারী বগা), রকি হোসেন পিচ্চি, মনির হোসেন ইম এবং আবুল হাসান ওরফে কালা হাসান। এছাড়া রিমান্ড নামঞ্জুর হওয়া আট আসামি হলেন-মো. রবিন, সাকিব হাসান, দেলোয়ার হোসেন জিসান, মো. শাকিল, মো. জাহাঙ্গীর আলম, আব্দুর রহমান, সোহেল ওরফে ব্লেড সোহেল এবং আবুল কাশেম।
সোমবার দুপুর ১২টার দিকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে বিহারী বগাসহ অন্য আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়।
পুলিশের এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৪ সেপ্টেম্বর খুলশী থানা এলাকায় বিহারী বগাকে ঘিরে পুলিশের সঙ্গে তার অনুসারীদের আকস্মিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
ওই সময় হামলা চালিয়ে খুলশী থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুর রহিমসহ অন্তত ছয় পুলিশ সদস্যকে আহত করা হয় এবং ওসির সরকারি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ বেশ কয়েক রাউন্ড সাউন্ড গ্রেনেড ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলের একটি ঘরের ভেতর তল্লাশি চালিয়ে বিহারী বগার সুকৌশলে পালিয়ে যাওয়ার জন্য তৈরি একটি গোপন সুড়ঙ্গপথের সন্ধান পায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
এ ঘটনার পরদিন ৫ সেপ্টেম্বর খুলশী থানায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করে। মামলায় ২১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও আড়াইশ জনকে আসামি করা হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, কুখ্যাত সন্ত্রাসী বিহারী বগার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, মাদক ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগে মোট ১৭টি মামলা রয়েছে।
গত ১৮ অক্টোবর খুলশী থানার একটি চাঁদাবাজির মামলায় তিনি অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করলে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠান।
এরপর গত ২৬ ও ২৭ অক্টোবর পুলিশের ওপর হামলা, ভাঙচুর ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার দুটি পৃথক মামলায় তার ও তার সহযোগীদের জামিন আবেদন নাকচ করা হয়।
সর্বশেষ গত ২৯ অক্টোবর কিশোর মোহাম্মদ হৃদয় হত্যা মামলায় তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
একের পর এক গুরুতর মামলায় গ্রেপ্তার ও রিমান্ডের মাধ্যমে চাঞ্চল্যকর এই মামলার তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি


