নোয়াখালীর রেলে সঞ্চার হচ্ছে নতুন প্রাণ

লাইন সংস্কারে ৪০ কোটি টাকা, যুক্ত হচ্ছে নতুন ট্রেন

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ০৭ নভেম্বর, ২০২৬ ১২:১৯

নোয়াখালী অঞ্চলের জরাজীর্ণ রেল যোগাযোগব্যবস্থায় নতুন প্রাণ ফেরাতে প্রায় ৪০ কোটি টাকার একটি বৃহৎ অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

এ প্রকল্পের আওতায় লাকসাম থেকে নোয়াখালী পর্যন্ত প্রায় ৫০ কিলোমিটার রেলপথের খোলস পাল্টানোর পাশাপাশি স্টেশনের মানোন্নয়ন এবং ঢাকা-নোয়াখালী রুটে নতুন আন্তনগর ট্রেন ‘সুবর্ণচর এক্সপ্রেস’ চালুর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় নোয়াখালীর চৌমুহনী রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্ম সম্প্রসারণ ও বিভিন্ন অবকাঠামোগত কাজ পরিদর্শনকালে এ সংক্রান্ত নানা অগ্রগতির তথ্য জানান জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী।

পরিদর্শনকালে তাঁর সঙ্গে বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী তানভীরুল ইসলাম এবং নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শন শেষে সিনিয়র সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, নোয়াখালী ও চৌমুহনী অঞ্চলের প্ল্যাটফর্মগুলোর দৈর্ঘ্য কম হওয়ায় যাত্রীদের ওঠানামায় দীর্ঘদিন ধরে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছিল।

এ দুর্ভোগ লাঘবে চৌমুহনী স্টেশনের প্ল্যাটফর্মের বিপরীত পাশে ৩০০ ফুট দীর্ঘ ও ১৫ ফুট প্রশস্ত একটি নতুন সম্প্রসারণ কাজ শুরু করা হয়েছে।

কাজ সম্পন্ন হলে একই সঙ্গে ১৬টি কোচের ট্রেনের যাত্রীরা স্বাচ্ছন্দ্যে ও নিরাপদে ওঠানামা করতে পারবেন।

তিনি আরও জানান, পূর্বে বন্ধ হয়ে যাওয়া জনপ্রিয় ‘নোয়াখালী এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি পুনরায় চালুর ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পের কারিগরি বিবরণ তুলে ধরে বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী তানভীরুল ইসলাম জানান, গত ৫ নভেম্বর লাকসাম-নোয়াখালী অংশের প্রায় ৫০ কিলোমিটার লাইন পুনর্বাসনের উদ্দেশ্যে ৪০ কোটি টাকার দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।

এই কাজের অধীনে জরাজীর্ণ রেলপাত ও স্লিপার পরিবর্তন, নতুন পাথর স্থাপন এবং ঝুঁকিপূর্ণ লেভেল ক্রসিংগুলোর মানোন্নয়ন করা হবে।

নতুন আন্তনগর ট্রেন চালুর বিষয়ে তিনি উল্লেখ করেন, ‘সুবর্ণচর এক্সপ্রেস’ পরিচালনার জন্য এই মুহূর্তে মিটারগেজ ইঞ্জিন (লোকোমোটিভ) ও কোচের সাময়িক সংকট রয়েছে।

তবে চট্টগ্রাম-দোহাজারী প্রকল্পের আওতায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩০টি নতুন ইঞ্জিন সংগ্রহের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান।

আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে এসব ইঞ্জিন ও কোচ রেল বহরে যুক্ত হলে ‘সুবর্ণচর এক্সপ্রেস’ পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা সম্ভব হবে।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি