back to top

ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের পদোন্নতির বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যানকে চিঠি

প্রকাশিত: ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ১৪:১৩

চট্টগ্রাম বন্দরে সিভিল ডিপার্টমেন্টে কর্মরত ওয়ার্ক মিস্ত্রিদের বাধাসহ নানান কারনে দীর্ঘদিন ধরে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের পদোন্নতি আটকে থাকার অভিযোগ উঠেছে।

দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে বন্দরের এই ইস্যু দেশে নতুন করে উত্তেজনা তৈরির আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় সম্প্রতি ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের কেন্দ্রীয় সংগঠন আইডিইবি হতে বন্দর চেয়ারম্যান বরাবর একটি চিঠিও প্রেরণ করা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকারের ১৯৭৮ ও ১৯৯৪ সালের জিও অনুযায়ী বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড হতে উত্তীর্ণ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারগণ দ্বিতীয় শ্রেণীর পদমর্যাদায় উপ-সহকারী প্রকৌশলী/সমমান পদে প্রাথমিক নিযুক্তির পর তদুর্দ্ধ পদে পর্যায়ক্রমে পদোন্নতি পেয়ে থাকেন।

যা সরকারের বিভিন্ন প্রকৌশল সংস্থা ও বিভাগে এখনো বিদ্যমান আছে এবং চবক’র বিভিন্ন বিভাগে শতাধিক ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার নানান পদে কর্মরত থেকে সংস্থাটির উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

তবে বিগত কয়েক বছর ধরে বন্দর কর্তৃপক্ষের উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদে কর্মরত ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের পদোন্নতির ক্ষেত্রে নানাভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করার অভিযোগ উঠেছে।

তাছাড়া এ প্রক্রিয়ায় সিভিল বিভাগে ১৬তম গ্রেডে কর্মরত ওয়ার্ক মিস্ত্রি ও পদোন্নতি কোটায় ১১তম গ্রেডের নন-ডিপ্লোমা উপ-সহকারী প্রকৌশলীগণ আদালতে রীট পিটিশনসহ ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে অনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে।

অভিযোগ রয়েছে গেল বছরের মার্চ মাসে হাইকোর্ট বিভাগে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত রীট পিটিশন দায়ের করেছেন বন্দরে সিভিল ডিপার্টমেন্টে কর্মরত ওয়ার্ক মিস্ত্রিরা।

তাছাড়া সম্প্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চলতি দায়িত্ব ও অতিরিক্ত দায়িত্ব নীতিমালা-২০২৩ অনুযায়ী পদোন্নতিযোগ্য ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের সাময়িক দায়িত্ব প্রদানের অনুরোধ সম্বলিত আবেদন না মঞ্জুর করার জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষের উপর অনৈতিক চাপও প্রয়োগ করছে তারা।

এসব বিষয় উল্লেখসহ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের পদোন্নতির বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বন্দর চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়ে অবহিত করেছে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের কেন্দ্রীয় সংগঠন আইডিইবি।

গত গত ২১ আগস্ট এ চিঠি প্রেরণ করা হয়। একই চিঠির অনুলিপি দেয়া হয় নৌ পরিবহন উপদেষ্টাসহ, মন্ত্রণালয়টির সিনিয়র সচিব ও অতিরিক্ত সচিব বরাবর।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, চট্টগ্রাম বন্দরের সিভিল ডিপার্টমেন্টে কর্মরত ১৬তম গ্রেডের ওয়ার্ক মিস্ত্রি ও কোটায় পদোন্নতি প্রাপ্ত ১১তম গ্রেডের নন-ডিপ্লোমা উপ সহকারী প্রকৌশলী গং দীর্ঘদিন যাবৎ ১০ম গ্রেডের সরাসরি নিয়োগ প্রাপ্ত ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের পদোন্নতির বিরুদ্ধে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে আসছে।

অথচ সরকারের ১৯৭৮ ও ৯৪ সালের জি.ও অনুযায়ী ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারগণ উপ সহকারী প্রকৌশলী পদে ১০ম গ্রেড ও ২য় শ্রেণির মর্যাদায় চাকরিতে যোগদানের পর ধারাবাহিকভাবে উপরের পদে পদোন্নতি পাবেন। এক্ষেত্রে নীচের গ্রেডের কাহারো আপত্তি জানানোর সুযোগ নাই।

তাছাড়া সরকারের ২০২৩ সালের নীতিমালায় উল্লেখ থাকা সত্ত্বেও মামলা চলমান অবস্থায় ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের সাময়িক দায়িত্ব প্রদানের লিখিত আবেদন মঞ্জুর না করার জন্য সম্প্রতি ওই সকল ব্যক্তিরা বন্দর কর্তৃপক্ষের উপর অনৈতিক চাপ প্রয়োগ করে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

পত্রে চট্টগ্রাম বন্দরের ডিপ্লোমা ইন্জিনিয়ারদের সমস্যা সমাধানের জন্য কিছু বিষয়ে অনুরোধ জানানো হয়।

এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো জরুরি ভিত্তিতে ১০ম গ্রেডের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের পদোন্নতি প্রদান করা, সরকারের ১৯৭৮ ও ১৯৯৪ সালের জি.ও অনুযায়ী চট্টগ্রাম বন্দরের ১৯৯১ সালের চাকুরী প্রবিধান সংশোধন করে উপ সহকারী প্রকৌশলী পদটি শুধুমাত্র ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং উল্লেখিত রিট পিটিশন মামলা নিষ্পত্তির উদ্যোগ গ্রহণ করা।

উল্লেখ্য দেশব্যাপী ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং এবং বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্রদের মধ্যে তাদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আন্দোলন চলমান আছে। এর মধ্যে বন্দরের ইস্যুটি দেশের পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হতে পারে বলে মনে করেন অনেকে।

ফলে জরুরী ভিত্তিতে ১০ম গ্রেডভুক্ত ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের উর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি প্রদান করা, চট্টগ্রাম বন্দর চাকুরি প্রবিধানমালা-১৯৯১ সংশোধনপূর্বক উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদটি শতভাগ সরাসরি নিয়োগযোগ্য পদ হিসেবে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য সংরক্ষণ করা, নিম্ন গ্রেডভুক্ত ওয়ার্ক মিস্ত্রি ও কোটার পদোন্নতিপ্রাপ্ত নন-ডিপ্লোমা উপ-সহকারী প্রকৌশলীগং কর্তৃক হাইকোর্ট বিভাগে দায়েরকৃত রীট পিটিশন নিষ্পত্তির উদ্যোগ গ্রহণ করার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বন্দর চেয়ারম্যানকে অনুরোধ জানিয়েছে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের কেন্দ্রীয় সংগঠন আইডিইবি।