রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টে মুখোমুখি বৈঠক করবেন।
বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) এই দুই নেতার মধ্যে দীর্ঘ ফোনালাপের এই সিদ্ধান্ত হয়। তবে বৈঠকটি কবে কখন হবে সে বিষয়ে তথ্য জানানো হয়নি।
এই ফোনালাপ ও বৈঠকের সিদ্ধান্তকে দুই বৃহৎ পরাশক্তির সম্পর্কের ক্ষেত্রে বড় ধরনের অগ্রগতি’ বলে দাবি করা হচ্ছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিরে এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে।
এটি হবে এই দুই নেতার দ্বিতীয় বৈঠক। এর আগে গত আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কায় দুই নেতা বৈঠকে বসেছিলেন।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, আজকের টেলিফোন আলাপে দারুণ অগ্রগতি হয়েছে। ‘
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও জানান, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে ‘অগৌরবজনক’ যুদ্ধ বন্ধ করা যায় কি না, তা দেখতে তিনি এবং পুতিন হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে বৈঠক করবেন। সেখানে বৈঠকের বিষয়ে উভয়ে সম্মত হয়েছেন।
ট্রাম্প আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওসহ যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার শীর্ষ কর্মকর্তারা আগামী সপ্তাহে ‘প্রাথমিক বৈঠক’ করবেন। তবে এই বৈঠক কোথায় হবে, তা এখনো ঠিক হয়নি।
ফোনালাপের বিষয়ে ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পুতিন ও ট্রাম্পের মধ্যে ‘দ্বিধাহীন ও আস্থাপূর্ণ’ আলোচনা হয়েছে। দুই নেতার বৈঠক আয়োজনে কাজ শুরু করেছে ক্রেমলিন।
বিবিসি প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করতে হোয়াইট হাউসে যাওয়ার কথা ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলাদিমির জেলেনস্কির।
এতে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহে ট্রাম্পকে রাজি করানোর চেষ্টা করতে পারেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট।
এই বৈঠকের প্রাক্কালে পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে বসার ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প। এর আগে আলাস্কায় অনুষ্ঠিত দুই নেতার প্রথম বৈঠকে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে কোনো অগ্রগতি হয়নি।
শান্তিচুক্তিতে পৌঁছাতে রাশিয়া রাজি না হওয়ায় ট্রাম্প সম্প্রতি পুতিনের প্রতি ক্রমেই হতাশা প্রকাশ করে আসছিলেন।
এরপর ট্রাম্পের এই ঘোষণা পুতিনের সঙ্গে তার সম্পর্কের সর্বশেষ নাটকীয় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।


