back to top

কালো অধ্যায় থেকে বেরিয়ে নতুন অধ্যায় সৃষ্টি করতে চাই-আবু সুফিয়ান

প্রকাশিত: ১১ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৪:৫৯

চট্টগ্রাম-৯ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব আবু সুফিয়ান বলেছেন, “ফ্যাসিস্ট বিদায় হয়েছে।

নতুন স্বপ্ন নিয়ে মানুষ জেগে উঠেছে—জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দ্বারা দেশ পরিচালিত হবে। মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করছি। নির্বাচনে বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশগ্রহণ করবে।”

রবিবার (১১ জানুয়ারি) দুপুরে নগরীর জামাল খানস্থ দাওয়াত রেস্টুরেন্টে চট্টগ্রামে কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

আবু সুফিয়ান বলেন, “আমি যদি নির্বাচিত হয়ে সংসদে যেতে পারি এবং আমার দল সরকার গঠন করতে পারে, এটাকে কোনোভাবেই ক্ষমতা হিসেবে নিতে চাই না; পবিত্র আমানত হিসেবে নিতে চাই।

মানুষের আকাঙ্ক্ষা পূরণে আমরা যেন সমর্থ হই।” দলীয় মনোনয়ন পাওয়ায় কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, “আমার দলের অনেক যোগ্য প্রার্থী মনোনয়ন চেয়েছিলেন।

তারপরও দল আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে। দলের নেতৃবৃন্দ নিজেরা প্রার্থী হলে যেভাবে কাজ করতেন, সেভাবেই ধানের শীষের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।”

তিনি বলেন, অতীতে যারা ক্ষমতায় গেছে তারা জনগণের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে নিজেদের পকেট ভারি করেছে। ফ্যাসিস্ট সরকারের কর্মকাণ্ডে দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়েছে।

এসব প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন করতে হবে। “যারা ভোট ছাড়া ক্ষমতা দখল করেছিল, তাদের সম্পদ বেড়েছে। আমরা ওয়াদা দিয়ে যেতে চাই—সংসদে গেলে দেশের মানুষের জন্য কাজ করবো,” বলেন তিনি।

সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন প্রসঙ্গে আবু সুফিয়ান বলেন, আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে প্রচারণা শুরু করা হবে। তিনি দাবি করেন, বিএনপি গত ১৭ বছর ধরে জনগণের ভোটাধিকার ও মৌলিক অধিকার আদায়ে সংগ্রাম করে যাচ্ছে।

এ সময় তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ত্যাগের কথাও উল্লেখ করেন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও চট্টগ্রাম-৮ আসনের প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর গণসংযোগে গুলিবর্ষণ এবং ঢাকায় ওসমান হাদির নিহত হওয়ার ঘটনাকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখা যায় না। “এগুলো নির্বাচনের পরিবেশ বিঘ্নিত করার ষড়যন্ত্র,” বলেন তিনি।

প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আবু সুফিয়ান বলেন, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের কঠোরভাবে আইনের আওতায় এনে সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব। “প্রার্থী হিসেবে প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা আমরা করবো,” যোগ করেন তিনি।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “জামায়াত ও এনসিপির কেউ যদি ভোট চেয়ে থাকেন, তাহলে তারা আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন।

আমরা ২২ তারিখ থেকে প্রচারণায় যাব। তবে মানুষের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক গভীর; প্রচারণা শুরু না হলেও আমরা এগিয়ে আছি।”

তিনি বলেন, একসময় নির্বাচন ছিল উৎসবের মতো। কিন্তু বিগত সরকার ভোটের দিনকে আতঙ্কের দিনে পরিণত করেছিল। “সেই কালো অধ্যায় থেকে বেরিয়ে নতুন অধ্যায় সৃষ্টি করতে চাই। এবারের নির্বাচনে আগের চেয়ে বেশি মানুষ ভোটকেন্দ্রে যাবে,” আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

আবু সুফিয়ান আরও বলেন, প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ভোটারদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। “তাদের আশ্বাসে আমরা আস্থা রাখতে চাই। জনগণ সচেতন থাকায় কোনো অপশক্তি পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে পারবে না,” বলেন তিনি।

মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চিফ কোঅর্ডিনেটর ও মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সামশুল আলম, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল আলম ও আহমেদুল আলম চৌধুরী রাসেলসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। সভায় চট্টগ্রামে কর্মরত বিপুল সংখ্যক গণমাধ্যমকর্মী উপস্থিত ছিলেন।