বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)-এর চট্টগ্রাম অফিসের ডেপুটি ম্যানেজার (বিজনেস অ্যান্ড অপারেশন) তানজিম হোসেনের বিরুদ্ধে তথ্য বিকৃতি, অননুমোদিত গণমাধ্যমে বক্তব্য প্রদান, দায়িত্বে অবহেলা এবং আর্থিক ক্ষতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তাৎক্ষণিক তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।
ঢাকার ১৪৭ বসুন্ধরা থেকে মাসফিকুর রহমান ও অন্যান্যদের সাক্ষরে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) চেয়ারম্যান বরাবরে লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২০ এপ্রিল বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিপিসি সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়েছে, যার পেছনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ভূমিকা রয়েছে বলে তারা মনে করছেন।
অভিযোগপত্রে স্পষ্টভাবে বলা হয়, “উক্ত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে বিপিসি বেসরকারি খাত থেকে জ্বালানি তেল ক্রয় বন্ধ করেছে এবং ৮ এপ্রিল নির্দেশনা জারি করেছে-যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। বাস্তবে এমন কোনো নির্দেশনা জারি করা হয়নি।”
অভিযোগে আরও বলা হয়, বাজার পরিস্থিতি ও সরবরাহ নিরাপত্তা বিবেচনায় বিপিসি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করে থাকে। কিন্তু ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করা হয়েছে, যা প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ণ করার শামিল।
তানজিম হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তিনি অননুমোদিতভাবে গণমাধ্যমে তথ্য প্রদান করে বিপিসির নীতিগত অবস্থান বিকৃত করেছেন এবং অফিসিয়াল দায়িত্ব পালনে অবহেলা করেছেন।
সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনের উৎস বা প্রভাব সৃষ্টির ক্ষেত্রেও তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া চট্টগ্রামে আগত বিদেশি ভেসেল সংক্রান্ত কার্যক্রমে যথাযথ রিপোর্টিংয়ে ব্যর্থতা, কর্মঘণ্টায় অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহার, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশনা উপেক্ষা এবং ব্যক্তিগত বা রিমোট কাজে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।
এসব কর্মকাণ্ড সরাসরি তাঁর পেশাগত দায়িত্বে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হিসেবে অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৩–২০২৪ অর্থবছরে বিপিসি প্রায় ২০ শতাংশ আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে।
এই ক্ষতির পেছনে ব্যবস্থাপনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় তানজিম হোসেনের ভূমিকা তদন্ত সাপেক্ষ বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগকারীরা মনে করছেন, এসব কর্মকাণ্ড বিপিসির নীতিমালা, পেশাগত শৃঙ্খলা এবং গোপনীয়তার গুরুতর লঙ্ঘন। এর ফলে প্রতিষ্ঠানের সুনাম, আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং জাতীয় জ্বালানি ব্যবস্থাপনা হুমকির মুখে পড়তে পারে।
এ প্রেক্ষিতে তারা পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করেছেন-অভিযোগের বিষয়ে অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত, বিভ্রান্তিকর তথ্যের উৎস শনাক্তকরণ, প্রমাণিত হলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ, জনসাধারণের বিভ্রান্তি দূরীকরণে বিপিসির আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা প্রদান এবং তদন্তকালীন সময়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি।
চিঠিতে সতর্ক করে বলা হয়েছে, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এটি প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতা ও জনআস্থার ওপর গুরুতর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
উল্লেখ্য, এ অভিযোগপত্রটি বিপিসির চেয়ারম্যান বরাবর পাঠানো হয়েছে এবং এর অনুলিপি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রেরণ করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রের সূত্র ধরে সংবাদ তৈরি করেছে দৈনিক চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন। এরপরও অভিযোগের বিষয়ে তথ্য জানতে তানজিম হোসেনের অফিসিয়াল মুঠোফোন 018******22 যোগাযোগ করা হলে অপর একজন ফোন রিসিভ করে তানজিম হোসেন বাইরে আছেন জানিয়ে কল কেটে দেন।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি


