স্বাস্থ্য ডেস্ক : প্রতিবছর এপ্রিলে বিশ্বজুড়ে ‘ওরাল ক্যান্সার সচেতনতা মাস’ পালিত হয়। সহজ ভাষায় ওরাল ক্যান্সার হলো মুখগহ্বর বা গলায় হওয়া ক্যান্সার।
বেশিরভাগ সময় শুরুতে এর তেমন লক্ষণ দেখা না গেলেও সময়ের সাথে এটি প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে।
প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে এটি নিরাময়যোগ্য, কিন্তু দেরি হলে মৃত্যুঝুঁকি অনেক বেড়ে যায় বহুগুণ। তাই সচেতনতা বৃদ্ধিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বিশ্বব্যাপি প্রতি বছর প্রায় ২.৭ লক্ষ থেকে ৩ লক্ষ নতুন ওরাল ক্যান্সারের রোগী শনাক্ত হয়। এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যা দেখা যায় দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়।
সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে এ অঞ্চলের মানুষের খাদ্যাভ্যাস, তামাকজাত পণ্যের অবাধ ব্যবহার এবং অসচেতনতা ও অবহেলা। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ওরাল ক্যান্সার একটি গুরুতর জনস্বাস্থ্য সমস্যায় পরিণত হয়েছে।
প্রতি বছর দেশে প্রায় ১৪ থেকে ১৬ হাজার নতুন রোগী শনাক্ত হচ্ছে এবং মৃত্যুহারও উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। মোট ক্যান্সার রোগীদের উল্লেখযোগ্য একটি অংশই ওরাল ক্যান্সারে আক্রান্ত।
বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ রোগীই চিকিৎসা নিতে আসেন রোগের শেষের পর্যায়ে, যখন চিকিৎসাও জটিল হয়ে পড়ে এবং সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনাও কমে যায়।
দীর্ঘদিন মুখের ভেতরে বা জিহ্বায় ঘা, সাদা বা লাল দাগ, গিলতে বা কথা বলতে অসুবিধা, মুখ বা গলায় অস্বাভাবিক ফোলা, কণ্ঠস্বরে পরিবর্তন, দাঁত ঢিলে হয়ে যাওয়া ইত্যাদি ওরাল ক্যান্সারের লক্ষণ হতে পারে। সাধারণ হলেও তিন সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হলে অবহেলা না করে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিৎ।
বাংলাদেশে এই রোগ বিস্তারের অন্যতম প্রধান কারণ হলো; অবাধে ধূমপান, মদ্যপান, জর্দা-গুল-পান-সুপারি ও তামাক চিবানোর অভ্যাস।
এছাড়া, মুখের অপরিচ্ছন্নতা, যত্নের অভাব, এইচপিভি সংক্রমণ, অপুষ্টি ইত্যাদি ঝুঁকি বাড়াতে পারে। বিশেষ করে, গ্রামাঞ্চলে তামাক ও সুপারি ব্যবহারের উচ্চ হার এর বিস্তারে বড় ভূমিকা রাখছে।
যদিও প্রাথমিক অবস্থায় শনাক্ত করা গেলে অপারেশনের মাধ্যমে টিউমার অপসারণ করে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে, কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে রেডিওথেরাপি বা কেমোথেরাপির প্রয়োজন হতে পারে।
বর্তমানে আধুনিক চিকিৎসা হিসেবে টার্গেটেড থেরাপি ও ইমিউনোথেরাপি ব্যবহৃত হচ্ছে।
চট্টগ্রামবাসীর জন্য ওরাল ক্যান্সারসহ সব ধরণের অনকোলজি চিকিৎসায় আস্থার নাম এভারকেয়ার হসপিটাল চট্টগ্রাম।
এখানে আছে আন্তর্জাতিক মানের রেডিওথেরাপি ও ডায়াগনোসিস সুবিধা, অভিজ্ঞ অনকোলজিস্ট টিম এবং মাল্টিডিসিপ্লিনারি কেয়ার সুবিধা।
রোগীর অবস্থা অনুযায়ী অভিজ্ঞ ডাক্তারের তত্ত্বাবধায়নে এখানে ব্যক্তিগত চিকিৎসা পরিকল্পনা প্রদান করা হয়, যা রোগীর সুস্থতা দ্রুত নিশ্চিতে সাহায্য করে।
ওরাল ক্যান্সার প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সরকারি উদ্যোগে গণমাধ্যম, শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র এবং উপাসনালয়ে নিয়মিত প্রচারণা চালানোর পাশাপাশি তামাক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর আইন প্রয়োগ ও বিকল্প সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা উচিৎ।
সবার সম্মিলিত চেষ্টায় প্রাণঘাতী ওরাল ক্যান্সার প্রতিরোধ অসম্ভব কিছু নয়।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি


